টানা ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের কমান্ড সেন্টার এবং মিসাইল সাইটগুলোতে তীব্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে এখন সর্বাত্মক যুদ্ধের দামামা বাজছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকির হাত থেকে বাঁচাতে ইরানের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে শেষ হওয়া এই হামলায় বন্দর আব্বাস এবং গ্রেটার টুনব দ্বীপের ক্রুজ মিসাইল সাইটগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর পাশাপাশি, মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করে আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে খার্গ দ্বীপের দিকে যাওয়ার সময় 'বেলমা' নামের কুরাকাও-পতাকাবাহী একটি খালি তেলের ট্যাংকারেও আঘাত করে তা বিকল করে দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
চলমান এই ভয়াবহ হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। যুদ্ধ অবসানের কোনো চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষণও আর অবশিষ্ট নেই। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানকে সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মিসাইল ছোঁড়ার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন করার এই অযৌক্তিক আগ্রাসনের জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে মার্কিন বাহিনী।"
| পক্ষ | সামরিক পদক্ষেপ / লক্ষ্যবস্তু | বর্তমান পরিস্থিতি / প্রভাব |
|---|---|---|
| 🇺🇸 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | বন্দর আব্বাস ও গ্রেটার টুনব দ্বীপে হামলা, তেলের ট্যাংকার বিকল | ইরানি বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল |
| 🇮🇷 ইরান | কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা | ৩৫ জন নিহত, ৩০০+ আহত |
| বিশ্ব অর্থনীতি 🌐 | হরমুজ প্রণালী ও বাব এল-মান্দেব রুটে হুমকি | তেল ও গ্যাস রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার শঙ্কা |