
নিউজ প্রোভাইডার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো অনন্য এক বর্ষা উৎসব ‘ঘনঘটা-২’। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে ‘আর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি’র উদ্যোগে শুরু হওয়া ৯০ মিনিটের এই আকর্ষণীয় উৎসবে মেতে ওঠেন তিন শতাধিক নৃত্যশিল্পী। বর্ষার মনকাড়া আবহ ও আবহমান বাংলার চিরচেনা সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পরিবেশিত এই নৃত্যানুষ্ঠান উপভোগ করতে চারুকলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমান বিপুলসংখ্যক দর্শক।
এবারের ‘ঘনঘটা-২’ উৎসবের সবচেয়ে অনন্য ও বড় চমক ছিল বিভিন্ন বয়সী শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই নৃত্যানুষ্ঠানে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ নৃত্যশিল্পীরাও একই মঞ্চে পা মিলিয়েছেন। বর্ষার অফুরন্ত সৌন্দর্য, আবহমান বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি মানুষের মানবিকতার বার্তা একসঙ্গে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতেই এই বৈচিত্র্যময় মেলবন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
নান্দনিক এই নৃত্যানুষ্ঠানের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক অনন্য মানবিক উদ্দেশ্য। আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল একটি সময়োপযোগী সামাজিক উদ্যোগ। সম্প্রতি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত ও পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই সাংস্কৃতিক মঞ্চকে ব্যবহার করা হয়।
অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘জাগো ফাউন্ডেশন’-এর দুটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ বুথ স্থাপন করা হয়, যার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষদের জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করা হয়। উৎসবে আসা বিপুলসংখ্যক সংস্কৃতিক অনুরাগী ও দর্শনার্থীরা নৃত্যের ছন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মানবিক উদ্যোগে অংশ নেন এবং বুথগুলোতে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
প্রকৃতির রূপ আর মানুষের ভেতরের মানবিক সত্তাকে এক সুতোয় গেঁথে ‘ঘনঘটা-২’ উৎসবটি রাজধানী ঢাকার সংস্কৃতি অঙ্গনে এক নতুন ও প্রশংসনীয় নজির স্থাপন করল।