
নিউজ প্রোভাইডার
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী নাম ড. মাহারাং বালোচ। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া এই বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও পেশাদার চিকিৎসকের বয়স মাত্র ৩৩ বছর। তবে এই অল্প বয়সেই তিনি বালোচ বাসীর অধিকার ও স্বাধীন বালোচিস্তানের এক সর্বজনস্বীকৃত এবং অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন। বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে বালোচ জনগণের অধিকারের মূল মুখপাত্র।
বালোচিস্তানে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা জোরপূর্বক গুম, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অঞ্চলের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণের বিরুদ্ধে একক নেতৃত্বে অহিংস প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন মাহারাং। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক লংমার্চগুলো বালোচিস্তানের সাধারণ মানুষকে অধিকার আদায়ে উজ্জীবিত করেছে। বালোচ নারীদের রাজপথে নামিয়ে এনে স্বাধিকার আন্দোলনের মূল স্রোতে যুক্ত করার পেছনে তাঁর অবদান অনন্য।
বালোচিস্তানের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আদায়ে আপোসহীন অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং বালোচ জনগণের কাছে তিনি বর্তমানে 'বালোচিস্তানের শেখ মুজিব' হিসেবে ভূষিত হচ্ছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই তরুণ বয়স থেকে নিপীড়িত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের জন্য রাজপথে লড়াই এবং অধিকারের পক্ষে আপোসহীন মনোভাবের কারণে মাহারাং বালোচকে এই নামে অভিহিত করা হচ্ছে।
নিজের দীর্ঘ অহিংস আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বমঞ্চেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছেন এই নেত্রী। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর ১০০ জন উদীয়মান নেতার মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন ড. মাহারাং বালোচ। এ ছাড়া ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির করা বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী নারীর তালিকায়ও অত্যন্ত মর্যাদার সাথে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। বালোচিস্তানের দীর্ঘ ও রক্তাক্ত রাজনৈতিক ইতিহাসে মাহারাং বালোচ এখন এক নতুন ভোরের নাম, যা বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির অন্যতম প্রেরণা।