
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ১৪ সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি ফিশিং বোট জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে বিসিজি স্টেশন সেন্টমার্টিনের একটি দল উত্তর-পশ্চিম গভীর সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পাচার কাজে জড়িত ১৩ জনকে আটক করা হয়।
পরে আটক বোটের মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকেলে কোস্ট গার্ড ও র্যাব-১৫ (সিপিসি-২) যৌথভাবে উখিয়ার বালুখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহ (৪০)-কে গ্রেপ্তার করে।
জানা যায়, আজিম উল্লাহ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে মিয়ানমারে অবস্থানকারী এক আনোয়ার নামের ব্যক্তির কাছ থেকে পণ্যের চাহিদা নিয়ে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার অসাধু বোট মালিকদের সহযোগিতায় এসব পণ্য ‘আরাকান আর্মি’র কাছে পাচার করত।
এছাড়া পাচারের বিপরীতে মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে আনার চেষ্টাও করত বলে জানা গেছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জব্দকৃত সিমেন্ট ও বোট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, দেশের সমুদ্রসীমায় পাচার ও চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।