
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে বাড়িতে ঢুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। নিহতকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত তরুণের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পবা উপজেলার হরিয়ান পূর্ব পাড়া গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নগরের কাটাখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত নারীর নাম ফরিদা খাতুন (৪০)। তাঁর স্বামী লালন শেখ হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত। হামলায় গুরুতর আহত ছেলে মো. ফয়সালকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফরিদা খাতুনকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল।
স্থানীয় হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, লালন শেখের প্রতিবেশী বাবুর ছেলে মো. পরশ (১৮) অতর্কিত হামলা চালিয়ে ফরিদাকে ছুরিকাঘাত করেন। নিহতের শাশুড়ি বাসিয়া বেগম জানান, শুক্রবার সকালে পরশ এক ব্যক্তিকে মারধর করেছিলেন, যা নিয়ে সন্ধ্যায় ফরিদা খাতুন কথা বলছিলেন। বিষয়টি পরশের মা শুনতে পেয়ে ছেলেকে জানালে পরশ ৩ তলার ছাদ থেকে গালিগালাজ করতে করতে নিচে নেমে আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর মা ও আরও দুই সহযোগী ছিলেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরশ ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো চাকু দিয়ে ফরিদাকে কোপাতে শুরু করেন। মাকে বাঁচাতে ফয়সাল এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত বাবুর দোতলা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে এর আগেই পরিবারটির সব সদস্য পালিয়ে যান। শনিবার বেলা সাড়াটায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির একটি কক্ষে তখনও আগুন জ্বলছিল।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী লালন শেখ বাদী হয়ে কাটাখালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত পরশ পূর্বেও মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।