
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন প্রবীণ সাংবাদিক, সাহিত্য গবেষক ও কলামিস্ট জেমস আব্দুর রহিম রানা। দীর্ঘ চিকিৎসা ও ব্যয়বহুল অপারেশনের কারণে পরিবারটি এমনিতেই চরম আর্থিক সংকটে। এর মধ্যেই তাদের জীবনে নেমে এসেছে আরেক অমানবিক মর্মান্তিক ঘটনা। স্বামীর চিকিৎসার জন্য রক্ত ও নগদ অর্থ জোগাড় করতে বেরিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন তার স্ত্রী। খোয়া গেছে অপারেশনের টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন। তবে এই জঘন্য অপরাধীদের ধরতে রাজধানীজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের একাধিক ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে:
জানা যায়, গত ২৭ মে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় জেমস আব্দুর রহিম রানার ডান পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে তার। গত ২০ জুন চিকিৎসাধীন স্বামীর জন্য রক্ত সংগ্রহ ও অন্যান্য কাজ শেষে ফেরার পথে তার স্ত্রী এই নিষ্ঠুর ছিনতাইয়ের শিকার হন। দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়, যা পরিবারটিকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে মামলাটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এরশাদুল হক জানান, তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশের এই আন্তরিকতা ও চলমান তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীরা গ্রেপ্তার হবে এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার হবে। এই ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে তা রাজধানীতে ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ভুক্তভোগী | সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানার স্ত্রী |
| ঘটনার তারিখ ও প্রেক্ষাপট | ২০ জুন (স্বামীর চিকিৎসার জন্য রক্ত ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফেরার পথে) |
| খোয়া যাওয়া মালামাল | অপারেশনের নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন |
| তদন্তকারী সংস্থা | মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ (তদন্তকারী কর্মকর্তা: এসআই এরশাদুল হক) |