
নিউজ প্রোভাইডার
বর্তমান যুগে ছোট-বড় সবার মাঝেই চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও সাধারণ সমস্যাটি হলো ‘মায়োপিয়া’ (Myopia), যাকে বাংলায় হ্রস্বদৃষ্টি বা নিকটদৃষ্টি বলা হয়ে থাকে। এই চোখের সমস্যায় ভুগতে থাকা ব্যক্তিরা চোখের কাছের বস্তু বা লিখা বেশ স্পষ্ট দেখতে পেলেও দূরের কোনো কিছু দেখতে গেলে তা বেশ ঝাপসা বা অস্পষ্ট লাগে।
আমাদের চোখের ভেতরের গঠনের অস্বাভাবিকতার কারণেই মূলতঃ এই সমস্যাটি দেখা দেয়:
অক্ষিগোলকের দীর্ঘতা: চোখের অক্ষিগোলক (Eyeball) যদি স্বাভাবিক আকারের চেয়ে দৈর্ঘ্যে বেশি লম্বা হয়ে যায়, তবে আলোক রশ্মি রেটিনার ওপর সঠিকভাবে পতিত না হয়ে সামনে এসে পড়ে।
কর্নিয়ার বক্রতা: চোখের কর্নিয়া (Cornea) বা লেন্সের বাঁক বা বক্রতা যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়, তবে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে।
বংশগত প্রভাব: পরিবারে বা মা-বাবার মায়োপিয়ার ইতিহাস থাকলে সন্তানদের মধ্যেও এই সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়।
চোখে মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টির সমস্যা দেখা দিলে সাধারণত যেসব লক্ষণ ফুটে ওঠে:
দূরের সংকেত, সাইনবোর্ড বা স্ক্রিনের লেখা দেখার সময় চোখ কুঁকড়ে বা ছোট করে তাকানোর চেষ্টা করা।
অতিরিক্ত সময় ধরে দূরের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘন ঘন মাথা ব্যথা করা বা চোখের ওপর প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করা।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে পড়ালেখায় মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা দূরের জিনিস দেখতে অসুবিধা হওয়া।
মায়োপিয়া সম্পূর্ণ স্থায়ীভাবে দূর করা না গেলেও আধুনিক চিকিৎসার সাহায্যে এটি সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্বাভাবিক দৃষ্টি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব:
১. সঠিক নম্বরের চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স: একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাইনাস পাওয়ারের (Minus Power) অবতল লেন্সযুক্ত চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারে দূরের দৃষ্টি একদম স্পষ্ট হয়ে যায়।
২. লেসিক সার্জারি (LASIK): যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং চোখের পাওয়ার নির্দিষ্ট রয়েছে, তারা কর্নিয়াল রিফ্র্যাক্টিভ সার্জারি বা 'লেসিক' পদ্ধতির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে চশমার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারেন।
৩. নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা: চোখের পাওয়ারের পরিবর্তন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে বছরে অন্তত একবার হলেও রেজিস্টার্ড চক্ষু চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।