

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য লুক্কায়িত প্রতিভা, যারা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে অবাক করে দেন পুরো বিশ্বকে। এমনই একজন অনন্য শিল্পী হলেন ময়মনসিংহের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন মোহন। তুলি বা সাধারণ রঙের বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন শিল্পের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মাধ্যম। মোহন পরিত্যক্ত বা ঘুনপোকা খাওয়া কাঠের ডাস্ট (গুঁড়া) দিয়ে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন অভাবনীয় সব ছবি। বিশ্বে বিরল এই শিল্পমাধ্যমের নাম তিনি দিয়েছেন 'ঘুন-চিত্র', যা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত হচ্ছে।
মোহন মূলত একটি দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার শিল্পকর্ম তৈরি করেন:
যেকোনো নতুন বা ভিন্নধর্মী কাজের শুরুটা কখনোই মসৃণ হয় না। ঘুনপোকা খাওয়া কাঠের গুঁড়ো নিয়ে মেতে থাকার এই অদ্ভুত নেশার কারণে শুরুর দিকে মোহনকে চারপাশের মানুষের অনেক হাসি-তামাশা ও কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। অনেকেই একে পাগলামি ভেবেছিলেন। কিন্তু নিজের একাগ্রতা ও সহনশীলতার জোরে তিনি সবার ভুল ভেঙে দিয়েছেন। পরবর্তীতে তার কাজের সুনিপুণতা যখন মানুষের নজরে আসে, তখন প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। বর্তমানে তার তৈরি এই অনন্য চিত্রকর্মগুলো শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং নিউজিল্যান্ড, হল্যান্ড, চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতেও পৌঁছে গেছে এবং ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ছবি আঁকার প্রতি মোহনের এই অদম্য টান ছোটবেলা থেকেই ছিল। শুরুতে তিনি প্রথাগত রঙের বাইরে গিয়ে চুমকি, কটন বাড, দেশলাইয়ের কাঠি ও রাংতা দিয়ে ছবি তৈরি করতেন। সেই সৃজনশীলতারই চূড়ান্ত রূপ হলো এই ঘুন-চিত্র। কাঠের গুঁড়ো দিয়ে ছবি আঁকার এই অভিনব কৌশলটি তিনি সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় উদ্ভাবন করেছেন। তার সংগ্রহে এমন কিছু ছবি রয়েছে, যেগুলো প্রায় ২২ বছরের পুরোনো হওয়া সত্ত্বেও আজও সম্পূর্ণ অক্ষত ও নতুনের মতো উজ্জ্বল। শিল্পচর্চার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তাও। ময়মনসিংহে বসবাসরত মোহন বর্তমানে ছবি আঁকার পাশাপাশি নার্সারি ব্যবসার সাথেও সক্রিয়ভাবে জড়িত আছেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| শিল্পীর নাম | ইকবাল হোসেন মোহন |
| শিল্পের মাধ্যম | ঘুনপোকা খাওয়া কাঠের গুঁড়ো (ডাস্ট) |
| বর্তমান বাসস্থান | ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ |
| আন্তর্জাতিক বিস্তার | নিউজিল্যান্ড, হল্যান্ড, চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া |
| পেশাগত পরিচিতি | শিল্পী এবং নার্সারি ব্যবসায়ী |