
নিউজ প্রোভাইডার
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান ও ক্রমাগত বিমান হামলা সত্ত্বেও তেহরানকে নিজেদের শর্তে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারেনি ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতা গড়ে তোলার যে প্রারম্ভিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছিল, তা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক অভূতপূর্ব সামরিক ও রাজনৈতিক অচলবস্থার (Deadlock) মুখোমুখি হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিষেশজ্ঞ এবং মার্কিন সামরিক চিন্তক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, চলমান এই যুদ্ধ কেবল ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই বাড়াচ্ছে না, বরং ২০২৬ সালের আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) মুখে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকেও মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়া বা নতুন কৌশল বাস্তবায়নের জন্য মূলত ৩টি বিকল্প পথ রয়েছে, যার প্রতিটিই অত্যন্ত ঝুঁকিযুক্ত:
ক. সীমিত স্থলযুদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি (Ground Campaign):
তেহরানের পরমাণু ও সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে স্থলভাগে সেনা নামানো। তবে এতে শত শত মার্কিন সেনার প্রাণহানি এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি 'অসীম যুদ্ধ' (Endless War)-এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
খ. কৌশলগত পিছু হটা ও হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব মেনে নেওয়া:
হরমুজ প্রণালিতে (Strait of Hormuz) ইরানের আধিপত্য মেনে নিয়ে সামরিক তৎপরতা কমানো। তবে এতে বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের শক্তিশালী ভাবমূর্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছে ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গ. আন্তর্জাতিক নৌ-ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মাধ্যমে সমঝোতা (De-escalation Roadmap):
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তেজনা কমানোর সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক যৌথ নৌ-নিরাপত্তা ট্রাস্ট গঠন করা। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানকে এই বাণিজ্যিক জলপথের নিরাপত্তায় অংশীদার করলে আনুষ্ঠানিকভাবে কারও হার-জিত ছাড়াই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ স্থবির হয়ে পড়ায় তার নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে:
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ নো-গো জোনে পরিণত হওয়ায় অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) আন্তর্জাতিক সরবরাহ শিকল ভেঙে পড়েছে।
ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও জনরোষ: আসন্ন শীতের আগে ইউরোপে এলএনজি ও জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় ইউরোপীয় সরকারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বেশ কয়েকটি দেশে জনরোষ তৈরি হয়েছে।
কৃষি খাতে সার সংকট: জ্বালানি সংকটের ফলে বিশ্বে রাসায়নিক সার ও ডিজেলের দাম একলাফে বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক রয়টার্স ও সিএনএন-এর জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম হু-হু করে বাড়তে থাকায় মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধনীতির সমর্থন সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান দলের অনেক আইনপ্রণেতাও এখন যুদ্ধের ব্যাপ্তি কমানোর পক্ষে মত দিচ্ছেন।
চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে ট্রাম্প যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক পথ বা যুদ্ধবিরতির কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে না পারেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
Slug: iran-us-war-trump-deescalation-strategy-cnn-analysis