
নিউজ প্রোভাইডার
ইন্টারনেট জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ছবি, ভিডিও এবং লেখার বিস্তার রোধে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিঙ্কডইন এবং সাবস্ট্যাকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মে মানুষের তৈরি আসল কনটেন্টকে প্রাধান্য দিতে এবং সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত 'এআই স্লপ' (AI Slop) প্রতিরোধে একযোগে মাঠে নেমেছে।
স্ন্যাপচ্যাটের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান 'স্ন্যাপ' সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, তাদের জনপ্রিয় স্পটলাইট (Spotlight) ফিডে এখন থেকে শতভাগ এআই দিয়ে তৈরি কোনো ভিডিও রেকমেন্ড করা বা ছড়িয়ে দেওয়া হবে না। ব্যবহারকারীদের এখন থেকে মানুষের তৈরি আসল ও খাঁটি (authentic) কনটেন্ট বেশি দেখানো হবে।
তবে স্ন্যাপচ্যাট এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেনি। তাদের প্ল্যাটফর্মে নিজস্ব এআই টুল ব্যবহার করে কোনো ভিডিওর মান উন্নত করা বা এডিট করা হলে তা স্পটলাইটে দেখানোর সুযোগ থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শতভাগ এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সাধারণত নিম্নমানের, একঘেয়ে এবং ব্যবহারকারীদের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সহজ কথায়, বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে অতি দ্রুত তৈরি করা নিম্নমানের ও কৃত্রিম ছবি, ভিডিও বা লেখাকে চলতি ভাষায় 'এআই স্লপ' বলা হয়। বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত এআই কনটেন্ট দেখতে দেখতে ব্যবহারকারীরা এখন ইন্টারনেটের কোনো তথ্যকেই সহজে বিশ্বাস করতে পারছেন না। ফলে পুরো ডিজিটাল জগতের ওপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
১. লিঙ্কডইন (LinkedIn): কর্মসংস্থানভিত্তিক এই পেশাদার প্ল্যাটফর্মটিতে কোনো পোস্ট বা কমেন্ট এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হলে সরাসরি রিপোর্ট করার জন্য একটি বিশেষ বাটন যোগ করা হয়েছে। লিঙ্কডইনের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার জানান, প্রতিদিন তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমেন্ট করার লাখ লাখ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিচ্ছেন। পাশাপাশি, পোস্টের ভাষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে দেওয়ার জন্য তাদের যেসব এআই প্রম্পট বা সুবিধা ছিল, সেগুলো সরিয়ে সাধারণ প্রুফরিডিং ফিচার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
২. ইউটিউব (YouTube): গুগলের মালিকানাধীন এই ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটি তাদের কনটেন্ট মনিটাইজেশন নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। সম্পূর্ণ এআই-জেনারেটেড, একই ধরনের ছাঁচে ফেলা বা জেনেরিক ভিডিওর মাধ্যমে আয় করার পথ বন্ধ করা হচ্ছে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কনটেন্ট মেকিংয়ে সহায়তার জন্য এআই চমৎকার প্রযুক্তি হলেও বর্তমানে এটি মূলত নিম্নমানের 'কনটেন্ট ফার্মিং'-এর কাজে অপব্যবহার করা হচ্ছে, যা বন্ধ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
৩. সাবস্ট্যাক (Substack): নিউজলেটার প্ল্যাটফর্ম সাবস্ট্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রায় ৪০ শতাংশ লেখাই এখন এআই দিয়ে তৈরি বা ফেক। যে প্ল্যাটফর্মগুলো ভুয়া তথ্যকে উৎসাহিত করবে, তারা অচিরেই জনপ্রিয়তার দৌড় থেকে ছিটকে পড়বে।