
নিউজ প্রোভাইডার
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্তৃক আয়োজিত ‘১ম নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস জাতীয় প্রতিযোগিতা’য় কারাতে বিভাগে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার আদিবাসী কিশোরী নাম্বিয়া লুইজি নকরেক। এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় তিনি ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে +৪৫ কেজি ওজন শ্রেণীতে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনেন।
জাতীয় পর্যায়ের এই সাফল্যে শুধু তাঁর পরিবার বা কোচিং একাডেমি নয়, বরং পুরো ঢাকা বিভাগ, টাঙ্গাইল জেলা এবং স্থানীয় গারো আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।
জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক ও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ট্রফি অর্জনের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত নাম্বিয়া লুইজি নকরেক বলেন:
"শুরুতে নিজের শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই কারাতে শেখা শুরু করেছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে কারাতে আমার সবচেয়ে পছন্দের খেলায় পরিণত হয়। আজকের এই বড় সাফল্যের পেছনে আমার নিজের পরিশ্রম ও একাগ্রতার পাশাপাশি আমার কোচ এবং পরিবারের সবার অকৃত্রিম অবদান ও সহযোগিতা ছিল। এই জাতীয় প্রতিযোগিতায় এসে দেশের নানা প্রান্তের নতুন অনেকের সাথে পরিচিত হতে পেরে আমার ভীষণ ভালো লাগছে।"
নাম্বিয়া লুইজি নকরেক টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় গারো সম্প্রদায়ের দম্পতি মিন্টু দিব্রা ও সুকলা নকরেকের ছোট মেয়ে। প্রতিকূলতা কাটিয়ে এক প্রান্তিক আদিবাসী পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে এমন গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য লাভ করা স্থানীয় তরুণদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
তিনি 'বাংলাদেশ সিতো-রিউ কারাতে-দো একাডেমি, টাঙ্গাইল'-এর অধীনে নিয়মিত কারাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। ক্রীড়া সংস্থা 'কারাতেফিট' (KarateFit)-এর পক্ষ থেকেও এই কৃতী কারাতেকাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নাম্বিয়া লুইজি নকরেক ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।