জেমস আব্দুর রহিম রানা
যশোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ব্যানারে রাতের আঁধারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করার অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পাঁচজন সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের ৪০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) যশোর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন আজিজ সিটি রোড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তারা মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত ব্যক্তিরা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়, যশোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম এবং যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলী। এছাড়া যশোর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাকলাদার, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার এবং বেজপাড়া এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মোহিত কুমার নাথসহ আরও অনেক নেতাকর্মী এ মামলার আসামি হয়েছেন।
এছাড়াও মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শহীদুজ্জামান বাবু (দাতাল বাবু), শেখ আতিকুর রহমান বাবু (জার্মান বাবু), মাহমুদ হাসান বিপু, জাহিদুল ইসলাম লাবু, কামাল হোসেন পর্বত, মনি, তৌফিক, সোহান, লোকমানের ছেলে বাবলু, মৃত কিবরিয়ার ছেলে ওয়াসেল, মৃত কাটোর ছেলে রবি, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, মাসুদের ছেলে আব্দুল্লাহ, সুজন, পট্টি, নুরুল আলমের ছেলে শরিফুল আলম সুজন, আইজুলের ছেলে চয়ন, শাওন, মুন্সি বাবুর ছেলে সবুজ, আরিফ আহাদুল, বজলু খলিফার ছেলে শাহাদত, মৃত খালেকের ছেলে আমিরুল, মৃত হারুনের ছেলে শহীদ, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ডাবলু, সরোয়ারের ছেলে মিলন, মন্টুর ছেলে রিমন এবং ষষ্ঠীতলা পাড়ার সৈয়দ আহমেদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু। একই সঙ্গে আসামির তালিকায় রয়েছেন কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার স্বজনও, যেমন ইয়াকুব আলীর ছেলে ফাহিম মোল্লা, রণজিৎ রায়ের ছেলে রাজীব রায়, স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে শুভ ভট্টাচার্য এবং মোহিত কুমার নাথের ছেলে রতি নাথ।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কয়েকজনকে ওই নিষিদ্ধ সংগঠনের মূল অর্থদাতা ও প্রভাবশালী নেতৃত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অপর আসামিদের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করে আসছে।
এদিকে একই অভিযোগে ২৯ এপ্রিল রাতে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নয়জনকে আটক করে। পরে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।