
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিখোঁজের ৯ দিন পর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) ১৫ টুকরো খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মরদেহের টুকরোগুলো তিনটি ব্যাগ ও একটি বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। নিহত রাকিব রায়হান সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাকিব ঢাকায় কর্মরত থাকলেও প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসেন এবং সেদিন রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন। পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাকিব বিবাহিত হলেও কয়েক বছর আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। তিনি গ্রামে নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন। ২৪ জুলাইয়ের পর পরিবার ধারণা করেছিল তিনি কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। তবে ২৬ জুলাই কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবার নিশ্চিত হয় যে তিনি নিখোঁজ। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ২৭ জুলাই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে জিডি করার পরদিন (২৮ জুলাই) থেকেই রাকিবের বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার রাজু মির্জা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এতে পুলিশ ও স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
পুলিশ জানায়, রোববার সকাল থেকেই এলাকাটির বিভিন্ন বাগান ও সন্দেহজনক স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে রাকিবের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত পুকুরে রহস্যজনক ব্যাগের সন্ধান মেলে। পরে ব্যাগগুলো উদ্ধার করে খুলতেই ভেতরে মানুষের দেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া যায়। অনুসন্ধান শেষে তিনটি ভ্রমণ ও স্কুলব্যাগ এবং একটি বিছানার চাদর থেকে মোট ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান:
"হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীরা আলামত গোপন করতে মরদেহ ১৫ টুকরো করে ব্যাগে ভরে পুকুরে ফেলে দেয়। জিডির পর থেকেই কেয়ারটেকার আত্মগোপনে থাকায় তাঁকে ঘিরে জোর সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্য কারণ এবং কতজন এতে জড়িত তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"