
বিশ্বজুড়ে কোটি তরুণ ক্যাথলিকের মিলনমেলা—'বিশ্ব যুব দিবস' (World Youth Day) আবারও ফিরছে এশিয়ায়। আর এই মহাআয়োজনকে ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল এখন যেন প্রস্তুতির উত্তেজনায় মুখর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের তরুণ খ্রিস্টানদের জন্য এই আয়োজন হতে পারে এক অনুপ্রেরণার অসীম উৎস—যেখানে বিশ্বাসকে নবায়ন করা, বিশ্বব্যাপী বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তোলা এবং একসঙ্গে প্রার্থনার এক বিরল সুযোগ অপেক্ষা করছে।
ক্যাথলিক নিউজ এজেন্সি 'লাইকাস নিউজ' (LiCAS News)-এর সূত্রমতে আয়োজনের মূল প্রস্তুতিগুলো হলো:
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল আর্চডায়োসিস জানিয়েছে, হাজারো তীর্থযাত্রী এবং বৈশ্বিক চার্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এই আয়োজনের জন্য তারা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি পর্বে প্রবেশ করেছে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের থাকা-খাওয়া, পরিবহন, নিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাটাই এখন পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি ও সিউলের আর্চবিশপ পিটার সুন-তায়িক চুং এ প্রসঙ্গে জানান, গত তিন বছর ধরে এই বিশাল আয়োজনের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আগামী বছরটি হবে আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার সময়, যখন আমরা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা তরুণদের স্বাগত জানাব।"
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আসন্ন আসরের আয়োজক | সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া (২০২৭) |
| এশিয়ায় প্রথম আয়োজন | ম্যানিলা, ফিলিপাইন (১৯৯৫ সাল) |
| ঘোষণাকারী | প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস (২০২৩ সালের লিসবন আসরে) |
| আয়োজনের মূল বার্তা | বিশ্বাস, ঐক্য ও আশা |
১৯৯৫ সালে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসরের পর, দীর্ঘ তিন দশক পর সিউলের এই আয়োজন হতে যাচ্ছে এশিয়ায় বিশ্ব যুব দিবসের দ্বিতীয় আসর। ২০২৩ সালে পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব যুব দিবসের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস সিউলকে পরবর্তী আয়োজক শহর হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি আয়োজকরা পরিবেশ সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। পোপ ফ্রান্সিসের পরিবেশবিষয়ক এনসাইক্লিকাল ‘লাউদাতো সি’ (Laudato Si) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা ‘ব্রেথ অব লাইফ গ্লোবাল ট্রি-প্ল্যান্টিং ক্যাম্পেইন’ চালু করেছেন, যার মাধ্যমে বিশ্বের তরুণ সমাজকে বৃক্ষরোপণের উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।