
বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে এখন চলছে কেবলই স্পাইডার-ম্যানের রাজত্ব! মুক্তির পর মাত্র কয়েক দিনেই একের পর এক ইতিহাস গুঁড়িয়ে দিয়ে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের গণ্ডি পার করল সনি ও মার্ভেল স্টুডিওসের নতুন সংবেদন ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।
২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ১.২২ বিলিয়ন ডলারের বিশ্বব্যাপী ওপেনিংয়ের পর, ইতিহাস সৃষ্টি করে সর্বকালের দ্বিতীয় দ্রুততম সিনেমা হিসেবে এই ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করল ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্র্যাটন পরিচালিত এই ছবিটি। সোমবারের বক্স অফিস সংগ্রহের পর বিশ্বজুড়ে ছবিটির বর্তমান আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১.০৫২ বিলিয়ন ডলারে (১০০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি)!
সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো, উত্তর আমেরিকার আইম্যাক্স (IMAX) স্ক্রিন ছাড়াই কেবল সাধারণ প্রেক্ষাগৃহ থেকেই এই বিপুল বাণিজ্য করেছে ছবিটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সোমবারের রেকর্ড: সোমবারে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ছবিটি আয় করেছে ৪৭ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে বর্তমানে ছবিটির ডোমেস্টিক (আমেরিকান) আয় দাঁড়িয়েছে ৪০৭ মিলিয়ন ডলারে।
আন্তর্জাতিক বাজার: উত্তর আমেরিকার বাইরে বিশ্বজুড়ে ৬৪৫.৮ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছে স্পাইডি।
৬৬টি দেশে এক নম্বর: বিশ্বের ৮২টি অঞ্চলের মধ্যে ৬৬টি বাজারেই এটি এক নম্বর উদ্বোধনী রেকর্ড গড়েছে। ফ্রান্স, ভারত, ব্রাজিল, স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্কসহ বহু দেশে সর্বকালের সেরা ওপেনিংয়ের নতুন নজির গড়েছে সিনেমাটি।
সনি পিকচার্স মোশন পিকচার্স গ্রুপের চেয়ারম্যান টম রথম্যান এই ঐতিহাসিক সাফল্য নিয়ে ডেডলাইনকে (Deadline) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন:
"আপনি পেরু, পাকিস্তান কিংবা পেওরিয়া—যেখানেই থাকুন না কেন, মানুষ দিনশেষে বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সম্পর্ক চায়। মৌলিকভাবে এটি বন্ধুত্ব এবং আশার গল্প।"
তিনি আরও জানান, কেবল কোটি কোটি ডলারের অ্যাকশন বা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস দেখালেই দর্শকরা হলে আসে না। দর্শকরা মনে রাখে ছবি তাদের কেমন অনুভূতি দিয়েছে। প্রথম ট্রেইলারেই ইমোশনকে সামনে রাখা হয়েছিল, যা মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭১৯ মিলিয়ন ভিউ পেয়ে সর্বকালের সবচেয়ে দেখা ট্রেইলারের রেকর্ড গড়েছিল।
'নো ওয়ে হোম'-এ তিনজন স্পাইডার-ম্যানের যে জাদুকরী উপস্থিতি ছিল, তা হয়তো এই ছবিতে নেই; তবে 'ব্র্যান্ড নিউ ডে'-তে পিটার পারকারের চরিত্রকে আরও আবেগঘন ও গভীর রূপ দেওয়া হয়েছে।
ছবিটিতে এক্স-মেন (X-Men) ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচিত চরিত্র ‘জিন গ্রে’ (Jean Grey)-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন স্যাডি সিঙ্ক (Sadie Sink)। রথম্যানের মতে, জিন গ্রে কেবল প্রথাগত খলনায়ক নন, বরং পরিস্থিতির শিকার এক করুণ চরিত্র।
"পিটার পারকারের বীরত্বের আসল রূপ হলো শত্রুকে ধ্বংস করা নয়, বরং সেই শত্রুকে ধ্বংসাত্মক পথ থেকে উদ্ধার করা," বলেন রথম্যান।
ছবিটির প্রচারণায় সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিল বাস্তব জীবনের তারকা দম্পতি টম হোল্যান্ড ও জেনডায়া। জুলাই মাসজুড়ে তারা ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দি ওডিসি’ এবং ‘স্পাইডার-ম্যান’—দুটি বড় বাজেটের সিনেমার প্রেস ট্যুর একসাথে চালিয়ে গেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিটিক্স ফার্ম রিলিশমিক্স (RelishMix)-এর তথ্যমতে, মুক্তির আগেই টিকটক, ইউটিউব, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম জুড়ে এই ছবির সোশ্যাল মিডিয়া রীচ ছিল রেকর্ড ২.৮৬ বিলিয়ন। বাস্তব জীবনে ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখা এই দুই তারকাকে একসাথে পর্দায় ও প্রেস ট্যুরে দেখাই ভক্তদের কাছে ছিল এক বিশাল আকর্ষণ!
| দেশ / বাজার | মোট আয় (USD) |
| 🇨🇳 চীন | $১৩২.৯ মিলিয়ন |
| 🇬🇧 যুক্তরাজ্য | $৫৫.৬ মিলিয়ন |
| 🇲🇽 মেক্সিকো | $৪৩.৬ মিলিয়ন |
| 🇮🇳 ভারত | $৩৫.৪ মিলিয়ন |
| 🇫🇷 ফ্রান্স | $৩১.৪ মিলিয়ন |
| 🇰🇷 দক্ষিণ কোরিয়া | $২৮.০ মিলিয়ন |
| 🇧🇷 ব্রাজিল | $২৭.৭ মিলিয়ন |
| 🇦🇺 অস্ট্রেলিয়া | $২৩.৪ মিলিয়ন |
| 🇩🇪 জার্মানি | $২২.৫ মিলিয়ন |
| 🇮🇹 ইতালি | $২০.৭ মিলিয়ন |
বর্তমানে চলচ্চিত্র জগতে 'সুপারহিরো ক্লান্তিকাল' বা 'Superhero Fatigue' নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন সনি পিকচার্স প্রধান। তিনি স্পষ্ট জানান, এক জিনিস বারবার করলে দর্শক ক্লান্ত হয়, কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার জন্য নয়। গল্প ভালো হলে দর্শক যে সবসময় পাশে থাকে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ 'স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে'।