
গত দুই বছর ধরে ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের শেষের দিকেই দেশে ফিরবেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি সাংবাদিক ক্লাবে আয়োজিত মিডিয়া ইভেন্টে বুধবার সম্প্রচারিত এক অডিও বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
সিনহুয়া (Xinhua) সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী শেখ হাসিনার অডিও বার্তার উল্লেখযোগ্য অংশ:
শেখ হাসিনার এই দেশে ফেরার ঘোষণার বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। গত মাসে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, দেশে ফিরলেই হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হবে, কারণ এরই মধ্যে একটি বিশেষ আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সরকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে চায় এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমবার তার প্রত্যর্পণের দাবি জানানোর পর ভারতকে একাধিকবার রিমাইন্ডারও পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা তাকে ফেরত চাই এবং আমরা চাই তিনি বিচারের মুখোমুখি হোন।" এর পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলটিকেও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
| সময়কাল | ঘটনাপ্রবাহ |
|---|---|
| আগস্ট ২০২৪ | ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ। |
| নভেম্বর ২০২৫ | জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড। |
| জুলাই ২০২৬ | বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় প্রত্যর্পণের জোর দাবি পুনর্ব্যক্ত। |
| আগস্ট ২০২৬ | নয়াদিল্লিতে সম্প্রচারিত অডিও বার্তায় এ বছরের শেষেই দেশে ফেরার ঘোষণা। |
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তার দেশে ফেরা এবং পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।