নিউজ প্রোভাইডার
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সরকার যদি জনগণের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে ১০ দফা দাবি পেশ
মুক্তাঙ্গনের এই কর্মসূচিতে জোটের পক্ষ থেকে বিদ্যমান সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ১০ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো:
১. ভুতুড়ে বিলের গণশুনানি: গত তিন মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা সব ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ওপর অবিলম্বে গণশুনানির আয়োজন করা। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
২. অযৌক্তিক চার্জ বাতিল: প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটারভাড়া এবং অন্য সব অতিরিক্ত চার্জ অবিলম্বে বাতিল করা।
৩. অতিরিক্ত অর্থ ফেরত: গত তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ ও মিটারভাড়ার নামে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ কোনো প্রকার আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া।
৪. স্বচ্ছ বিলিং ব্যবস্থা: প্রতিটি পোস্টপেইড বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে মিটার রিডিংয়ের লগ সংযুক্ত করা এবং প্রিপেইড মিটারের ভেন্ডিং সফটওয়্যার ও সামগ্রিক বিলিং ব্যবস্থার স্বাধীন নিরপেক্ষ অডিট পরিচালনা করা।
৫. ‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়’ নীতি: গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে কোনো বিল আদায় করা যাবে না—এই নীতি অনতিবিলম্বে কার্যকর করা।
৬. নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান: জ্বালানিতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৭. মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল তদন্ত: মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতি ও দায়ী ব্যক্তিদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
৮. পুনরায় চালুর সুনির্দিষ্ট সময়সূচি: এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের জন্য নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ পরিকল্পনা জনসমক্ষে আনা।
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্যান্য জোট নেতারা অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এসব অব্যবস্থাপনা দূর করার দাবি জানান।