
ম্য্রহস্যময় ও স্পর্শকাতর সমুদ্রপথ 'হরমুজ প্রণালী' সুরক্ষায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোলেও জলপথটি দ্রুত খুলে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। শনিবার দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতি স্বীকার করলেও কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেনি। এর মধ্যেই প্রণালীতে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছালেও প্রণালীটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা সম্পূর্ণভাবে অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত জুনে চুক্তি ভঙ্গ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে ইরান। অন্যদিকে, দেশটির নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোরকাদর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ৬টি দাবি মেনে নিতে হবে, যার মধ্যে ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং সমুদ্র অবরোধ তুলে নেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি দ্রুত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বেশ সতর্ক অবস্থান প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “আমরা এখনও ম্যাচের মাঝামাঝি অবস্থায় আছি, লড়াই শেষ হয়নি।” এদিকে মধ্যস্থতার আলোচনার মধ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) তেল কোম্পানি অ্যাডনোকের (Adnoc) একটি ট্যাংকারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
| পক্ষ | বর্তমান অবস্থান ও দাবি |
|---|---|
| ইরান | মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তি ও জুন চুক্তির ক্ষতিপূরণ ছাড়া প্রণালী পুরোপুরি খুলবে না। |
| ওমান | মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিকল্প রুট ও যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা চালাচ্ছে। |
| যুক্তরাষ্ট্র | কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রেখে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে। |