নিউজ প্রোভাইডার
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবন থেকে দলীয় প্রার্থী বা প্রতিনিধি দলের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
নির্বাচন কমিশন ও আইনি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য একজন প্রার্থীর নামে একাধিক (সাধারণত দুই বা তিনটি) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। মূলত একটি মনোনয়নপত্রে কোনো প্রকার কারিগরি বা দাপ্তরিক ভুল-ত্রুটি ধরা পড়লে বা কোনো কারণে বাতিল হলে যাতে অন্যটি আইনিভাবে বৈধ বিবেচিত হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দল ও সরকার পরিচালনায় কার ভূমিকা বেশি প্রয়োজন—এ বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় যাঁদের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে:
-
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপির দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ও অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতা।
-
নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ নীতি-নির্ধারকবৃন্দ।
-
হাফিজ উদ্দিন আহমদ: বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিত্ব।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ ও ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদটি অপ্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়, যেখানে শুধু জাতীয় সংসদের সদস্যরা (এমপি) ভোট প্রদান করেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রপতি পদটি সংসদীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে একটি পরোক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোর আলোকেই এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়:
-
সংবিধানের ৪৮ ও ৫০ অনুচ্ছেদ: ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যগণ (এমপি) ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ হবে দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী ৫ বছর।
-
সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ (অভিশংসন): রাষ্ট্রপতিকে কেবল 'সংবিধান লঙ্ঘন' বা 'গুরুতর অসদাচরণ'-এর অভিযোগে সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিশংসন করা সম্ভব।
-
ভোটের পদ্ধতি: রাষ্ট্রপতি পদের ভোটে জনগণ সরাসরি অংশ নেন না; সংসদ সদস্যরাই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সংসদীয় আসনের সমীকরণ: ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ অবস্থান
বর্তমান জাতীয় সংসদে প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন) রয়েছে।
যেহেতু পরোক্ষ নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার থাকে, তাই গাণিতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ বিচারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী যিনিই হবেন, তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া কার্যত সুনিশ্চিত।
বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা
সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, যদি কোনো পদে একাধিক বৈধ প্রার্থী না থাকেন, তবে একক প্রার্থীকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
সংসদের দলীয় অবস্থানের কারণে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট যদি পৃথক প্রার্থী দাঁড় না করায়, তবে ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই পর্ব শেষে বিএনপির একক প্রার্থীকেই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০ আগস্ট ভোটাভুটির আর প্রয়োজন পড়বে না।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত মূল সময়সূচি
-
মনোনয়নপত্র দাখিল: ১৩ আগস্ট ২০২৬ (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত)।
-
মনোনয়নপত্র বাছাই: ১৬ আগস্ট ২০২৬ (সকাল ১০টা থেকে)।
-
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ১৮ আগস্ট ২০২৬।
-
ভোটাভুটি (একাধিক প্রার্থী থাকলে): ২০ আগস্ট ২০২৬ (দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, জাতীয় সংসদ ভবন অধিবেশন কক্ষে)।