
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালী' পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একগুচ্ছ নতুন শর্ত পেশ করেছে ইরান। যার ফলে একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এরই মাঝে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জাজানে অবস্থিত আরামকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী খোলার সম্ভাব্য চুক্তিটিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সাথে তাদের আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছালেও প্রণালীটি পুনরায় চালু করার বিষয়টি অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভরশীল। ফ্রান্স ২৪-এর ওয়াশিংটন সংবাদদাতা ফ্রেজার জ্যাকসনের মতে, গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে' (MoU) ইরানের অনেক দাবিই যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছিল। কিন্তু তখন চুক্তির ভাষা বেশ সাধারণ থাকায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। ফ্রেজার আরও জানান, চূড়ান্ত চুক্তির জন্য এখন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রয়োজন, যা নিয়ে এখনো বেশ কিছু মতবিরোধ রয়েছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী জাজান (Jazan) শহরে অবস্থিত আরামকো রিফাইনারিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সৌদির অনুপ্রবেশের জবাবে তারা এই 'নিখুঁত' হামলা চালিয়েছেন।
তবে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার ভোরে রিফাইনারিতে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিস দ্রুত নিভিয়ে ফেলেছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি অবকাঠামোতে এসব হামলা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| জাজান রিফাইনারির ক্ষমতা | প্রতিদিন ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল শোধন। |
| রিফাইনারির প্রধান পণ্য | গ্যাসোলিন এবং আল্ট্রা-লাইট সালফার ডিজেল। |
| আরামকোতে পূর্বের হামলা | গত ২৭ জুলাই হুথিদের হামলায় প্ল্যান্টের আইজিসিসি (IGCC) কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। |
| মক্কা চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ | তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব (শুক্রবার স্বাক্ষরিত)। |
| চুক্তির মূল কাঠামো | ন্যাটোর 'আর্টিকেল ৫'-এর অনুরূপ মিউচুয়াল ডিফেন্স। |
আঞ্চলিক সুরক্ষার উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি যুগান্তকারী 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছে। শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগতভাবে এই চুক্তিটি ন্যাটোর 'আর্টিকেল ৫' বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মতোই শক্তিশালী। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে নয়। ন্যাটোর মতোই এখানেও একটি মন্ত্রী পর্যায়ের জোট কমিটি গঠন করা হবে এবং এর সাধারণ সচিবালয় সৌদি আরবে অবস্থিত থাকবে।