
ঢাকার ছোট শিশুদের মধ্যে 'শিগেলা' (Shigella) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের একটি বড় অংশ শনাক্তের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। প্রচলিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণেই এমনটি ঘটছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশ (icddr,b)-এর গবেষকরা। রবিবার ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে (DGHS) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়।
'এন্টারিকস ফর গ্লোবাল হেলথ শিগেলা সার্ভিল্যান্স স্টাডি'-এর অধীনে পাওয়া তথ্যগুলো হলো:
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত স্টুল কালচারের চেয়ে মলিকুলার কিউপিসিআর (qPCR) পরীক্ষা অনেক বেশি সংবেদনশীল। একই নমুনা থেকে প্রচলিত মল পরীক্ষায় যেখানে শিশুদের মধ্যে মাত্র ৫.৯ শতাংশ শিগেলা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল, সেখানে কিউপিসিআর (qPCR) পরীক্ষায় ১১.৬ শতাংশ নমুনায় সংক্রমণ শনাক্ত করা গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংক্রমণ অচিহ্নিত থেকে যাচ্ছে।
| বিষয় / সূচক | ফলাফল ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| প্রচলিত মল পরীক্ষায় (Stool culture) শনাক্ত | ৫.৯% শিশু |
| মলিকুলার কিউপিসিআর (qPCR) পরীক্ষায় শনাক্ত | ১১.৬% শিশু (দ্বিগুণেরও বেশি) |
| মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (MDR) | প্রায় ৬০% (প্রতি ১০টিতে ৬টি নমুনা) |
| এক্সটেনসিভলি ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (XDR) | প্রায় ১০% (প্রতি ১০টিতে ১টি নমুনা) |
শিগেলা ব্যাকটেরিয়া মানবদেহে ডায়রিয়া, আমাশয়, তীব্র জ্বর এবং দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে। বারবার বা গুরুতর সংক্রমণের কারণে শিশুদের শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা খর্বকায় (Stunting) হয়ে যেতে পারে।
এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো বাংলাদেশে শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আইসিডিডিআর,বি-এর সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী এবং ড. ফারহানা খানম যৌথভাবে গবেষণার এই মূল ফলাফলগুলো উপস্থাপন করেন।
শিগেলা সংক্রমণ প্রতিরোধ, নির্ণয় এবং চিকিৎসার উন্নতির জন্য আইসিডিডিআর,বি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ওপর নজরদারি জোরদার করা এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ওরস্যালাইন, জিংক এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, আধুনিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং শৈশবকালীন অসুস্থতা ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. শাহ নেওয়াজ দেওয়ানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. ফোয়ারা তাসনিম। এতে আইইডিসিআর (IEDCR), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF), আইএফআরসি (IFRC) এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।