
গাজীপুরের টঙ্গীতে দ্রুতগামী একটি কাভার্ডভ্যানের চাপায় এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা এবং আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী টঙ্গীর গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করে, যার ফলে মহাসড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসিন আলী। সে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার জেরে রবিবার সকাল থেকেই মাদরাসার প্রধান ফটক এবং গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি আদায়ে জড়ো হতে থাকে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, এই এলাকায় নিরাপদ সড়ক পারাপারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং এবং সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দিলে বিকেল ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, টঙ্গী ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিক জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করেছে। তবে সুযোগ বুঝে চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।