
বোগোতা / আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ৭.৪ মাত্রার এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল। এতে অন্তত ১১১ জন নিহত এবং ৮৭ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবিসি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে এই ব্রেকিং নিউজটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার ভূগর্বস্থ ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) এবং স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্যমতে:
মাত্রা: রিখটার স্কেলে ৭.৪।
উৎপত্তিস্থল: রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চল 'চোকো' (Chocó)-র সান জোসে দেল পালমার (San José del Palmar) এলাকার কাছে।
গভীরতা: ভূগর্ভের প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬৬-৭০ মাইল) গভীরে।
বিস্তার: রাজধানী বোগোতা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ইকুয়েডর, পানামা এবং ভেনেজুয়েলাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার একাধিক প্রধান শহর—কালি (Cali), পেরেইরা (Pereira), মানিজালেস (Manizales) এবং কিবদো (Quibdó) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধসে পড়া ভবন: ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং প্রায় ১,৬০০টিরও বেশি স্থাপনা আংশিক বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আকাশপথ ও বিমানবন্দর: মাতেকানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালের ছাদ ধসে পড়ায় ৬টি আঞ্চলিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক স্থাপনা: মানিজালেস শহরের ঐতিহাসিক 'মেট্রোপলিটন ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা'-র একটি মিনার ভেঙে প্রধান প্রার্থনা কক্ষের (nave) ওপর পড়েছে।
আঞ্চলিক প্রাণহানি: সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে রিসারালদা (Risaralda) বিভাগে (অন্তত ৪০ জন) এবং ভালে দেল কাউকা (Valle del Cauca) বিভাগে (অন্তত ২৭ জন)।
সদ্য শপথ নেওয়া কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলা দেশে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ (National Disaster) ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত করতে জরুরি তহবিল ছাড় করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, "আমরা আমাদের দেশের জনগণকে একা ছেড়ে দেব না। সরকার সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।"
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলম্বিয়াকে সব ধরনের মানবিক ও কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া ব্রাজিল, ইকুয়েডর, মেক্সিকো এবং জাতিসংঘ শোক প্রকাশ করে উদ্ধারকাজে সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছে।