নিউজ প্রোভাইডার
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন শহরের জরুরি সেবাদানকারী কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৪০ হতে পারে। ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারে সময় গণনা করে দিন-রাত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলিয়ার্দো দে লা এস্প্রিয়েল্লা (Abelardo de la Espriella) ভূমিকম্পে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে জরুরি অবস্থা (State of Emergency) ঘোষণা করেছেন।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭:৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের পর মঙ্গলবার দিনভর ৭০টিরও বেশি মৃদু ও মাঝারি আফটারশক (অনুকম্পন) অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্ট আবেলিয়ার্দো দে লা এস্প্রিয়েল্লা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পেরেইরা (Pereira) শহরে সাংবাদিকদের জানান:
হতাহতের সংখ্যা: ১৮১ জন নিহতের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হলেও প্রায় ২,৬০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভবন ও অবকাঠামো ধস: ১,১০৫টিরও বেশি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ৮,০০০টিরও বেশি স্থাপনা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম বড় শহর ক্যালি (Cali) এবং কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল পেরেইরা।
ক্যালি (Cali): ২২ লাখ মানুষের এই শহরে ৪৫টিরও বেশি বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছে। শহরের একটি শিশু হাসপাতালের ওপরের তলা ধসে পড়ায় বেশ কয়েকজন শিশু ও রোগী আটকা পড়েন। এ ছাড়া 'জিমনাশিও ক্যালিমা' নামক একটি স্কুলের একাংশ ধসে চার শিশু নিহত হয়েছে। লুটপাট ঠেকাতে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত শহরে নৈশ কারফিউ জারি করা হয়েছে।
পেরেইরা (Pereira): এ শহরে অন্তত ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার উদ্দেশ্যে সাধারণ যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বা 'কার-ফ্রি ডে' জারি করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর সমবেদনা জানিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জরুরি আশ্রয় ও ত্রাণের জন্য ১ কোটি৫৫ লাখ ডলার (প্রায় ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার) অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। স্পেন, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, এল সালভাদোর ও ভেনিজুয়েলাসহ বেশ কয়েকটি দেশ উদ্ধারকারী দল ও জরুরি ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তাব জানিয়েছে।