
খাদ্যপণ্যের দাম কমার ওপর ভর করে গত জুলাই মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে আট মাসের সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। গতকাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুনে ছিল ৯.১৬ শতাংশ। গত বছরের নভেম্বরের (৮.২৯%) পর এটিই সর্বনিম্ন হার। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এক মাসের এই পতন কোনো টেকসই নিম্নমুখী প্রবণতা নয়, বরং এটি সাধারণ ওঠানামা হতে পারে।
দেশের সাধারণ মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়, তাই খাদ্য মূল্যস্ফীতির এই তীব্র পতন ভোক্তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.২৮ শতাংশে থাকায় বাসস্থান, পরিবহন, পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ এখনও বহাল রয়েছে।
| খাত / অঞ্চল | জুন ২০২৬ | জুলাই ২০২৬ |
|---|---|---|
| সার্বিক মূল্যস্ফীতি | ৯.১৬% | ৮.৩২% |
| খাদ্য মূল্যস্ফীতি | ৮.৬০% | ৭.১৬% |
| খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি | ৯.৬১% | ৯.২৮% |
| শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি | ৯.০১% | ৮.২৪% |
| গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি | ৯.২৩% | ৮.৩৬% |
মূল্যস্ফীতির এই পতনকে এখনই চূড়ান্ত স্বস্তি হিসেবে ধরে নিতে নারাজ অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা বলেন, "গত মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং এর পুরো প্রভাব হয়তো এখনও জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতিতে প্রতিফলিত হয়নি। কারণ জ্বালানি খরচের প্রভাব উৎপাদন, পরিবহন এবং অন্যান্য পণ্য ও সেবায় ধাপে ধাপে পড়ে।" এক মাসের তথ্য থেকে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি কমে গেছে এমন উপসংহারে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি।
ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (InM)-এর নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে. মুজেরি বলেন, "খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এখনও ৯.২৮ শতাংশ, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর তীব্র চাপ অব্যাহত রেখেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা গত কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি ওঠানামা করতে দেখেছি। এটি স্থায়ী নিম্নমুখী ধারায় পৌঁছেছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে আরও কয়েক মাস পর্যবেক্ষণ করতে হবে।" পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হিসাব করায় বেস ইফেক্ট (Base Effect) এবং মৌসুমী কারণগুলোও এই পতনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।