সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া তুচ্ছ বিরোধের জেরে বড়দের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় আল আমিন (৩৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বালিঝুড়ি এলাকার বালিয়াঘাট গ্রামে এই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন ওই গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে গ্রামের মাঠে শিশুরা ফুটবল খেলছিল। খেলা চলাকালীন একটি শিশুর পায়ে জোরে ফুটবল লাগাকে কেন্দ্র করে আল আমিনের ভাগনের সঙ্গে আরেক শিশুর কথা-কাটাকাটি ও চড়-থাপ্পড়ের ঘটনা ঘটে।
নিহতের ছোট ভাই জুয়েল মিয়া জানান, শিশুদের এই বিরোধ সালিসের মাধ্যমে সমাধানের জন্য শুক্রবার রাতে তিনি বালিয়াঘাট বাজারে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। তবে সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
এরই জেরে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাদের বাড়ির সামনে এসে হুমকি-ধামকি ও গালিগালাজ শুরু করে। আল আমিন ঘর থেকে বের হয়ে এর প্রতিবাদ জানালে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ সময় রামদা দিয়ে আল আমিনের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে দ্রুত তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নওশাদ আহমেদ জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর মাথায় এবং শরীরে বেশ কয়েকটি গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত অন্য তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, শিশুদের খেলাধুলার সংঘাত বড়দের মারামারিতে রূপ নিয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।