নিউজ প্রোভাইডার
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫ জন কর্মকর্তার বেতন কমিয়ে একদম সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে একসঙ্গে এত জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৫ মার্চ। তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তত্কালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ অন্য কমিশনারদের প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তড়িঘড়ি করে কমিশনের নির্ধারিত সভায় অনধিকার প্রবেশ করে মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে এক ভীতিকর অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী গিয়ে অবরুদ্ধ চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে।
উক্ত ন্যক্কারজনক ঘটনার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মোট ২৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বিএসইসিকে। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই অন্য অভিযোগে বরখাস্ত হওয়ায় বাকি ২২ জনের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বুধবার (১৯ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিক বরখাস্তের চিঠি হস্তান্তর করা হয়।