
জোনাকি পোকার জিন ব্যবহার করে এমন এক উদ্ভাবন এনেছেন বিজ্ঞানীরা, যা রাতের আঁধারে জোনাকির মতোই আলো ছড়াতে পারে। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering) বা বায়োটেকনোলজির সুবাদে উদ্ভিদের কোষে আলো উৎপাদনকারী জিন যুক্ত করে তৈরি করা হচ্ছে এই বিশেষ জীবন্ত 'গাছ-বাতি'। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে শহরের রাস্তার বাতি কিংবা ঘরের ভেতরের আলোর বিকল্প হিসেবে অনন্য ভূমিকা রাখবে এই প্রযুক্তি।
জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উদ্ভিদের ডিএনএ-তে কৃত্রিমভাবে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনা হয়। এ ক্ষেত্রে জোনাকি পোকা বা নির্দিষ্ট কিছু আলো উৎপাদনকারী ছত্রাক ও মাশরুমের ডিএনএ থেকে বায়োলুমিনিসেন্ট জিন সংগ্রহ করে উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করানো হয়। এই জিনটি গাছের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ার সাথে মিশে বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়, যার ফলে কোনো প্রকার বাইরের বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্য ছাড়াই গাছটি নিজে থেকে আলো ছড়াতে সক্ষম হয়।
এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো রাতের বেলা শহরের পথঘাট বা ঘরের চারপাশ প্রাকৃতিকভাবে আলোকিত করা। এর ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ অপচয় ও খরচ বাঁচবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমে পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়ন হলে রাতের নগর সৌন্দর্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় ব্যাপক বিপ্লব আসবে।
| সূচক | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মূল প্রযুক্তি | জিন প্রকৌশল ও বায়োলুমিনিসেন্স (Bioluminescence) |
| শক্তি উৎস | সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক / উদ্ভিদের বিপাকীয় বিক্রিয়া |
| প্রাথমিক ডিএনএ উৎস | জোনাকি পোকা ও আলোক সৃষ্টিকারী মাশরুম/ছত্রাক |
| ব্যবহারের ক্ষেত্র | রাস্তার বাতি, নাইট-লাইটিং ও বাসাবাড়ির প্রসাধন |
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট নিরসনে কৃত্রিম আলোর বিকল্প হিসেবে বায়ো-লুমিনিসেন্ট প্ল্যান্ট একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। বিজ্ঞানীরা এখন এই উদ্ভিদের আলোক তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করছেন, যা ভবিষ্যতে আমাদের বিদ্যুৎ নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।