>ঢাকা: জাতিসংঘের (UN) পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বারকেট এগিয়ে রয়েছেন। শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ও অ-বাধ্যতামূলক ভোটে তিনি সর্বোচ্চ ৮টি ‘উৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের আগস্ট মাসের সভাপতি ও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিনা মার্কুস লাসেন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটে এগিয়ে রদ্রিগেস-বারকেট
ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, রদ্রিগেস-বারকেট ৮টি ‘উৎসাহিত’ ভোট, ৩টি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন। বাকি ৪ সদস্য কোনো মতামত জানাননি।
তাঁর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন কোস্টারিকার কূটনীতিক রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। দুজনই ৭টি করে ‘উৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন।
তবে গ্রোসি ৬টি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন, যেখানে গ্রিনস্প্যান পেয়েছেন ৪টি। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে গ্রিনস্প্যানই সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
আরও পাঁচ প্রার্থী
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে থাকা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
* সাবেক সেনেগালের প্রেসিডেন্ট **ম্যাকি সাল**
* সাবেক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি **মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা** (ইকুয়েডর)
* সাবেক চিলির প্রেসিডেন্ট **মিশেল ব্যাচেলেট**
* উগান্ডার কূটনীতিক **ওলার ওতুননু**
* ইকুয়েডরের কূটনীতিক **ইভোনে এ-বাকি**
ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে গুতেরেসের মেয়াদ
বর্তমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়াদের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মহাসচিব দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করেননি।
কীভাবে নির্বাচিত হন জাতিসংঘ মহাসচিব?
নিরাপত্তা পরিষদের এই গোপন ও অনানুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদের প্রতি সদস্যদের সমর্থনের মাত্রা যাচাই করা হয়। কয়েক দফা ভোটের মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়।
এরপর নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করে। সাধারণত সাধারণ পরিষদ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ অনুমোদন করে।
আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে কোনো প্রার্থীকে এগিয়ে যেতে অন্তত **৯টি ভোট** প্রয়োজন। তবে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—**যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য**—যেকোনো প্রার্থীকে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
পরবর্তী দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটগুলোতে স্থায়ী সদস্যরা আলাদা রঙের ব্যালট ব্যবহার করবেন। এর মাধ্যমে বোঝার সুযোগ থাকবে, কোনো প্রার্থীকে স্থায়ী সদস্যদের কেউ ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট দিয়েছেন কি না।
জাতিসংঘের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
নতুন মহাসচিবের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব পুনরুদ্ধার করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন যুদ্ধ, সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা বেড়েছে। গাজা যুদ্ধ এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মতো সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব সংস্থাটিকে আরও কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ করতে কতটা সক্ষম হয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।