
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের খাস-ঘুনিপাড়া গ্রামে ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি তিন বছর ধরে কোনো কাজেই আসছে না এলাকাবাসীর। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে গাইড ওয়াল ও অ্যাপ্রোচ (সংযোগ) সড়ক তৈরি না করায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাস-ঘুনিপাড়ায় নির্মিত এই সেতুটি নাগরপুর উপজেলা সদরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন ১৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি রোগী হাসপাতালে আনা-নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসীকে হাঁটু কিংবা কোমরসমান কাদা-পানি পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স খাইরুল কবির রানা’র পক্ষে সাব-কন্ট্রাক্টর মো. রিপন সেতুর প্রধান অবকাঠামো তৈরির পর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই এলাকা ত্যাগ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো কাজ করা হয়নি।
ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান ও আব্দুর রশিদ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "বর্ষা মৌসুমে আমাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। অনেক সময় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও কৃষিপণ্যবাহী যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা। দ্রুত গাইড ওয়াল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনোয়ারা বেগম পনু বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো হেলদোল নেই। ঠিকাদারের গাফিলতি ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই সেতুর কাজ ঝুলে আছে।"
একই ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মনির হোসেন ভূঁইয়া জানান, সেতুর পাশেই হাট-বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। জরুরি রোগী পরিবহন, সিএনজি, অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যান চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বর্ষায় কোমরসমান পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কাজের অগ্রগতি ও অসম্পূর্ণ রাখার বিষয়ে জানতে সাব-কন্ট্রাক্টর মো. রিপনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, "সেতুর অ্যাপ্রোচের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি সংশোধন করে পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে সেতুর বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।"