
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত 'অর্থনৈতিক যুদ্ধে' অংশ নেওয়া যেকোনো দেশকে নিজেদের 'শত্রু' হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান। শনিবার (২২ আগস্ট) এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে একঘরে করার যে ক্যাম্পেইন চলছে, তাতে মিত্র দেশগুলোকে টেনে আনার মার্কিন চেষ্টার চরম বিরোধিতাই ফুটে উঠেছে এই সতর্কবার্তায়।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, "আমরা সব দেশকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে আপনারা যোগ দেবেন না। যারা আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে অংশ নেবে, তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে।" তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যদি নিজেদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরিয়ে না নেয়, তবে ইরান তাদের স্বার্থেও সরাসরি আঘাত হানবে।
চলমান এই সংঘাতে ইরানের হাতে এখনো অনেক তাস বা বিকল্প রয়েছে বলে জোর দাবি করেন রেজাই। তিনি বলেন, "আমরা এখনো আমেরিকার কোনো অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত করিনি। এখন পর্যন্ত শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু তারা যদি আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিতে চায়, তবে ইরানের চারপাশে এবং বিশ্বের অন্যত্র থাকা মার্কিন তেল ও অর্থনৈতিক কোম্পানিগুলোতে আমরা ভয়াবহ হামলা চালাব।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নতুন পদক্ষেপ নিলে ইরানের পাল্টা জবাব "ভূমিকম্পের মতো" বিধ্বংসী হবে বলেও কড়া হুমকি দেন তিনি।
| দেশ / পক্ষ | বর্তমান অবস্থান ও পদক্ষেপ |
|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র (ট্রাম্প প্রশাসন) | মিত্রদের নিয়ে ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা। |
| ইরান | নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়া দেশগুলোকে 'শত্রু' ঘোষণার হুমকি। |
| চীন | মার্কিন উদ্যোগের সমালোচনা। নিষেধাজ্ঞা সমাধানের পথ নয় বলে মত। |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | তেহরানের সাথে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন সাময়িক স্থগিত। |
ইরানের অর্থনীতিকে একঘরে করতে ওয়াশিংটন তার মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি চীনের মতো পরাশক্তিকেও পাশে চাইছে। তবে বেইজিং এই মার্কিন উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কোনো সমাধান আনবে না।
অন্যদিকে, ইরানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত গত মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা তেহরানের সাথে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ স্থগিত রাখছে।