
মিচেল স্টার্কের ভয়ংকর গতির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করল বাংলাদেশ। মাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্টে ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে এমন ব্যাটিং বিপর্যয় বাংলাদেশের জন্য চরম হতাশার। স্টার্কের ম্যাচে ১০ উইকেটের বিধ্বংসী স্পেলে বাংলাদেশের দুই ইনিংস গুটিয়ে যায় যথাক্রমে মাত্র ৬৪ ও ৯৫ রানে।
দ্বিতীয় দিনের সকালে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে। ক্যামেরন গ্রিন এবং নাথান লায়ন নবম উইকেটে ২৮ রান যোগ করেন। এরপর শরিফুল ইসলাম তার বিধ্বংসী ইনসুইং ইয়র্কারে গ্রিনকে (৬৭) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের সপ্তম উইকেট শিকার করেন। শরিফুলের ৭-৪৮ ফিগারটি বিদেশের মাটিতে যেকোনো বাংলাদেশি বোলারের জন্য সেরা রেকর্ড। নাথান লায়নের অপরাজিত ৩২ রানের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে অলআউট হয় এবং প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের একটি বড় লিড পায়।
১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভার কোনোমতে পার করলেও পরের ওভারে সাদমান ইসলাম (১) ও মুমিনুল হককে (০) পরপর দুই বলে ফেরান স্টার্ক। মধ্যাহ্নবিরতির পর ফিরে এসে হতভাগ্য লিটন দাসকেও শূন্য রানে সাজঘরে পাঠান এই বাঁহাতি পেসার। পুরো সিরিজে ৩ ইনিংসে ২৭ বল খেলে কোনো রানই করতে পারেননি লিটন।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সর্বোচ্চ ৩১ রান এবং মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ২৯ রান করলেও বাকি ব্যাটারদের কেউই ডাবল ফিগারে পৌঁছাতে পারেননি। প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন ৩টি করে উইকেট নিয়ে স্টার্ককে দারুণ সঙ্গ দেন। চা বিরতির পরপরই লায়ন বাংলাদেশের লেজ ছেঁটে দিলে মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
| দল / খেলোয়াড় | স্কোর / ফিগার |
|---|---|
| বাংলাদেশ (১ম ইনিংস) | ৬৪/১০ (স্টার্ক ৬-১২) |
| অস্ট্রেলিয়া (১ম ইনিংস) | ২১০/১০ (গ্রিন ৬৭, শরিফুল ৭-৪৮) |
| বাংলাদেশ (২য় ইনিংস) | ৯৫/১০ (শান্ত ৩১, স্টার্ক ৪-৩৯) |
| সিরিজ সেরা (Player of the Series) | মিচেল স্টার্ক (১২ উইকেট) |
ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৪৪৫ উইকেট পূর্ণ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইনকে টপকে সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় দশম স্থানে উঠে এসেছেন মিচেল স্টার্ক। ম্যাচ শেষে প্লেয়ার-অফ-দ্য-সিরিজের পুরস্কার হাতে স্টার্ক বলেন, "আমার শরীর এখনো সঙ্গ দিচ্ছে, আমি টেস্ট ক্রিকেট দারুণ উপভোগ করি। আমি আমার শরীরের শেষ বিন্দু পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটের জন্যই নিংড়ে দিতে চাই।"
অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মাকাইয়ের স্পাইসি উইকেটে বাউন্স ও সুইংয়ের কাছে নতি স্বীকার করে বলেন, "ডারউইনের চেয়ে এখানকার কন্ডিশন সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। বাতাসে বাড়তি সুইং এবং বাউন্স ছিল, যা আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোতে এই অভিজ্ঞতা আমাদের মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।"