
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধানে বিদেশি নাগরিকদের মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ না থাকায় তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ (রিনাউন্স) করেছেন কি না, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।
জানা গেছে, সিলেটে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং একপর্যায়ে সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হওয়ার পর তিনি সবুজ পাসপোর্ট জমা দিয়ে কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। গত ছয় মাসে এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ অন্তত ১১টি দেশ সফর করেছেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতারা তার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের কথা নিশ্চিত করলেও, তিনি সেটি ত্যাগ করেছেন কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি। সরকারি সূত্রগুলোর কাছেও তার নাগরিকত্ব ত্যাগের কোনো আবেদন বা তথ্য নেই।
| বিষয় / ধারা | সংবিধান ও নজিরের বিস্তারিত |
|---|---|
| সংবিধানের ৫৬ ধারা | টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে। |
| সংবিধানের ৬৬(২)(গ) ধারা | বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন। |
| নাগরিকত্ব ত্যাগের পূর্ব নজির | মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ (যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছেড়েছিলেন)। |
| যুক্তরাজ্যের নিয়ম | জন্মসূত্রে অন্য দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাজ্যে দ্বৈত পাসপোর্ট রাখতে পারেন। |
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন এমন 'অনধিক এক-দশমাংশ' ব্যক্তিকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা গেলেও তাকে অবশ্যই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। আর ৬৬ ধারার ২(গ) উপধারায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। হুমায়ুন কবিরের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।