
মিয়ানমার থেকে নির্বাসিত হওয়ার নবম বার্ষিকীতে কক্সবাজারের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন দশ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। সংকটময় মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এবং উন্নত আন্তর্জাতিক সহায়তার দাবিতে ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’ নামক সংগঠনের ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তহবিলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং খাদ্য রেশনের পরিমাণ হ্রাসের কারণে শিবিরগুলোতে জীবনযাত্রার মান দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা অক্সফাম (Oxfam) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মানবিক সহায়তার এই ঘাটতি কক্সবাজারে অর্জিত যেকোনো অগ্রগতিকে নস্যাৎ করে দিতে পারে, কারণ এখানকার জরুরি সেবাগুলো ইতিমধ্যে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। রাইটস গ্রুপ 'সেভ দ্য চিলড্রেন' জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতি তিনজন রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে অন্তত একজন চরম খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| শরণার্থীর সংখ্যা | প্রায় ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইইউসহ ১৬টি মিশনের যৌথ বিবৃতি (নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই) |
| আইনি লড়াই | হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে জেনোসাইড বা গণহত্যা মামলা চলমান |
| জাতিসংঘের আহ্বান | পুনরায় বৈশ্বিক মনোযোগ ও কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ (মহা সচিব আন্তোনিও গুতেরেস) |
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডিসহ ১৬টি কূটনৈতিক মিশনের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য উপযোগী নয়। রাখাইন রাজ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা ও জান্তা সরকারের সহায়তা বা বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে যে তারা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত চাপের মুখে রয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন জরুরি। অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববাসীর নতুন মনোযোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।