ভারতে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি এবং বাংলাভাষী মুসলমানদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছে।
সিইআরডির ১৮ সদস্যের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে জাতিগত বিদ্বেষ থেকে তৈরি সহিংসতা ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ইচ্ছেমতো দীর্ঘদিন আটকে রাখা, নির্যাতন, অসদাচরণ এবং যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন অনেক প্রান্তিক মানুষ। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জোর আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।
| বিষয় / খাত | জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ ও বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| বর্ণপ্রথার প্রভাব | সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অন্যতম বড় কারণ। দলিতদের ক্ষেত্রে এটি প্রকট। |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা | জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে রাস্তায় তল্লাশি, নির্বিচারে আটক ও মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ। |
| রোহিঙ্গা ও অভিবাসী | যাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন, তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি। |
| আইনি ঘাটতি | ব্যক্তিগত পর্যায়ে জাতিগত বৈষম্যকে আইনে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ না করা। |
কমিটি বিশেষভাবে জোর দিয়েছে বাংলাভাষী মুসলমান, রোহিঙ্গা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে চলা পুলিশি অভিযানের ওপর। যাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন, তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো বা তাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়েও তীব্র উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (Hate Speech) ও অপরাধ জরুরি ভিত্তিতে মোকাবিলা করার তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ।
২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম সিইআরডির পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ভারতের বহুত্ববাদ ও আইনি সুরক্ষার দাবি করেছে। তবে কমিটির সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি জানিয়েছেন, মানবাধিকারকর্মীরা সেখানে প্রতিনিয়ত হুমকি ও নেতিবাচক পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। এর জবাবে ভারত দাবি করেছে যে, তারা সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।