
মার্কিন কান্ট্রি মিউজিকের অবিসংবাদিত রানি, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও অভিনেত্রী ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন। প্রায় ছয় দশক ধরে বিশ্বসংগীত মঞ্চে রাজত্ব করা এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্যান্সারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর ন্যাশভিলে তিনি শান্তিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তাঁর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি রেবেকা পার্টন। ১২ ভাইবোনের সঙ্গে এক কামরার ছোট্ট একটি কেবিনে কেটেছে তাঁর শৈশব। মাত্র ছয় বছর বয়সেই তিনি তাঁর প্রথম গান লেখেন। ১১ বছর বয়সে স্থানীয় রেডিওতে গাওয়া শুরু করেন এবং ১৩ বছর বয়সে পা রাখেন বিখ্যাত 'গ্র্যান্ড ওলে ওপরি'-তে। তাঁর নিজস্ব লেখা প্রায় ৩,০০০ গানের মধ্যে ২৫টি গান বিলবোর্ড কান্ট্রি চার্টে ১ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছিল।
| বিভাগ | বিস্তারিত |
|---|---|
| সংগীত সৃষ্টি | জীবদ্দশায় প্রায় ৩,০০০ গান লিখেছেন, যার মধ্যে ৪৫০টি রেকর্ড করা হয়েছে। |
| সর্বোচ্চ সম্মাননা | গ্র্যামি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট এবং রক অ্যান্ড রোল হল অফ ফেম (২০২২) |
| চলচ্চিত্র জগৎ | 'দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস', 'স্টিল ম্যাগনোলিয়াস', 'রাইনস্টোন' |
| ব্যক্তিগত জীবন | ১৯৬৬ সালে কার্ল ডিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন |
ডলি পার্টন শুধু তাঁর সুমিষ্ট কণ্ঠের জন্যই নয়, বরং তাঁর আইকনিক স্টাইল—উঁচু সোনালি চুল এবং জমকালো পোশাকের জন্যও তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। নিজের এই সিগনেচার লুকটি তিনি শৈশবের শহরের এক নারীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছিলেন। অন্যদিকে একজন দানশীল মানুষ হিসেবেও তিনি অনন্য। নিজের জন্মস্থান টেনেসিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান থেকে শুরু করে আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রিস্কুল শিশুদের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠিত লিটারেসি প্রোগ্রাম ব্যাপক প্রশংসিত হয়। রাজনৈতিকভাবে মেরুকৃত আমেরিকায় ডলি ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর শিকড়ের প্রতি সততা দিয়ে সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
সূত্র: রয়টার্স