নিউজ প্রোভাইডার
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের আওলাতলী গ্রামের নলুয়াকুড়ি ক্যাথলিক মিশন, যা ‘সাধুগুইডো মারিয়া কনফোর্টি ধর্মপল্লী’ নামে পরিচিত—সেখানে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন ফাদার বেন্জামিন গোমেজ এসএক্স। মানবতা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর নিরলস কাজ স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্থান করে নিয়েছে।
১৯৯১ সালে সুদূর স্পেন থেকে বাংলাদেশে আগমন করেন ফাদার বেন্জামিন গোমেজ। পরবর্তীতে ভালুকায় দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি হতদরিদ্র, অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেন। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে এলাকায় এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় এই ধর্মযাজক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর উদ্যোগে লাউতি নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এছাড়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২৪টি ফিডার স্কুল, ১৭টি ইন্টাভিটা স্কুল এবং ৯টি এডুকো শিক্ষালয়।
শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ছেলে হোস্টেল ও মেয়েদের জন্য ‘রোজলীন হোস্টেল’। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে টেকনিক্যাল স্কুল (এনটিএস), যেখানে সেলাই, অটোমোবাইল, ইলেকট্রিসিটি, ওয়েল্ডিং ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যসেবাতেও রয়েছে তাঁর অসামান্য অবদান। ‘ফাদার ত্বনীয় মেমোরিয়াল’ নামে ২৫ শয্যার একটি মিশন হাসপাতালের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।
সমাজ উন্নয়নে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং শিক্ষার প্রসারে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নলুয়াকুড়ি কুমারী মারিয়া আধুনিক উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আজ এলাকার উন্নয়ন ও আলোকিত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফাদার বেন্জামিন গোমেজ শুধু একজন ধর্মযাজক নন, তিনি মানবতার সেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে ভালুকার মানুষের ভালোবাসার মাঝেই থাকতে চান তিনি।
মানবকল্যাণে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান ভালুকা অঞ্চলে উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।