
ভিডিও গেইম ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক্ষিত শিরোনাম 'গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬' (GTA 6)। দীর্ঘ ১৮ মাসেরও বেশি সময় পর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান 'রকস্টার গেইমস' ভক্তদের জন্য প্রকাশ করেছে ২৬ মিনিটের একটি বিশেষ ‘এক্সটেন্ডেড লুক’ বা গেইমপ্লে প্রিভিউ। নজিরবিহীনভাবে ইউটিউবে আসার ছ’ঘণ্টা আগেই অনলাইন স্ট্রিমার নেটফ্লিক্সে (Netflix) এটি সম্প্রচার করা হয়।
সম্প্রতি কিছু অননুমোদিত গেইমপ্লে লিক হওয়ার কারণে ডেভেলপমেন্ট টিমের জন্য তা "হৃদয়বিদারক" অভিজ্ঞতা ছিল বলে রকস্টার উল্লেখ করে। তবে সেই তিক্ততা ভুলিয়ে অফিশিয়াল এই এক্সটেন্ডেড প্রিভিউতে গেইমটির গ্রাফিক্স, পরিবেশ এবং অ্যাকশন দৃশ্য দেখে ভক্তরা রীতিমতো মুগ্ধ। প্রিভিউ থেকে পাওয়া প্রধান কিছু আপডেট নিচে তুলে ধরা হলো:
'জিটিএ ৬'-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে বিখ্যাত দুর্ধর্ষ জুটি জেসন ডুভাল এবং লুসিয়া কামিনো-কে কেন্দ্র করে। ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইড’ ঘরানার এই গল্পের প্রিভিউতে জেসন ও লুসিয়ার রসায়নের ওপর বেশ জোর দেওয়া হয়েছে।
ক্যারেক্টার সোয়াইপিং: 'জিটিএ ৫'-এর মতো এই গেইমটিতেও মিশন চলাকালীন সময়ে মুহূর্তেই দুই চরিত্রের মধ্যে কন্ট্রোল পরিবর্তন (Switching) করার সুবিধা থাকছে। প্রিভিউতে দেখা যায়, একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ড্রাগ রেইডের সময় লুসিয়াকে জানলা দিয়ে নামতে সাহায্য করছে জেসন।
সম্পর্কের ওপর সিদ্ধান্ত: ডেভেলপমেন্ট টিমের সূত্র অনুযায়ী, প্লেয়ারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে জেসন ও লুসিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণ পরিবর্তিত হতে পারে। তবে চাইলে প্লেয়াররা এই রোমান্টিক বন্ডিং অপ্ট-আউট (এড়িয়ে চলা)-ও করতে পারবেন।
বিশাল বাজেট ও দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমে তৈরি গেইমটি গ্রাফিক্সের বিচারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চলেছে।
ফটো-রিয়েলিস্টিক ভিউ: ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন বা মুখের ভাবভঙ্গি থেকে শুরু করে চলাফেরা—সবকিছুতেই রয়েছে বাস্তব ছোঁয়া।
বৈচিত্র্যময় বডি টাইপ: গেইমের ব্যাকগ্রাউন্ড ক্যারেক্টার বা পথচারীদের শারীরিক গঠনে বিশাল বৈচিত্র্য আনা হয়েছে, যা গেইমিং দুনিয়ায় বেশ বিরল।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন: অ্যাপার্টমেন্ট, রুফটপ বার এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ক্লাবগুলোর ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আদলে তৈরি করা হয়েছে কাল্পনিক রাজ্য 'লিওনিডা' (Leonida)। এর মধ্যেই অবস্থান করছে ভক্তদের বহু পরিচিত স্থান 'ভাইস সিটি' (Vice City)। ইউটিউবার TGG (যিনি এডিনবার্গে রকস্টার নর্থ-এর হেডকোয়ার্টার সফর করেছেন) দাবি করেছেন, 'জিটিএ ৬'-এর ম্যাপ ‘জিটিএ ৫’-এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বড় হতে চলেছে। তবে রকস্টার এখনো এই তথ্যের অফিশিয়াল নিশ্চিতকরণ দেয়নি।
প্রযুক্তি ও ভিজ্যুয়াল এত উন্নত হলেও গেইমটি তার মূল শিকড় ভুলে যায়নি।
এখানে আগের মতোই থাকছে রোমাঞ্চকর গাড়ি ধাওয়া, হেইস্ট (ডাকাতি), ভূগর্ভস্থ অপরাধ জগৎ এবং মার্কিন সংস্কৃতির ওপর কড়া ব্যঙ্গাত্মক কৌতুক।
২০১৮ সালে প্রকাশিত জনপ্রিয় গেইম 'রেড ডেড রিডেম্পশন ২' (RDR2)-এর মতো এতেও একটি 'অনার' (Honour) বা সুনাম সিস্টেম রাখা হয়েছে, যা অন্যান্য চরিত্রের সাথে প্লেয়ারের সম্পর্ক ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করবে।
রকস্টার জানিয়েছে, গেইমটি আগামী ১৯ নভেম্বর একক প্লেয়ার (Single-player experience) হিসেবে বাজারে উন্মুক্ত হবে।
জিটিএ অনলাইন (GTA Online): অফিশিয়ালি এখনও মাল্টিপ্লেয়ার বা অনলাইন মোড নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মূল গেইম মুক্তির কিছুদিন পর অনলাইন সংস্করণ চালু হবে।
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান: ১৯৯৭ সালে যাত্রার পর থেকে জিটিএ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রায় ৫০ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। শুধুমাত্র ২০১৩ সালের 'জিটিএ ৫' বিক্রি হয়েছে ২০ কোটিরও বেশি কপি। 'জিটিএ ৬'-এর অফিশিয়াল ট্রেইলার দুটির ভিউ ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি ছুঁইছুঁই, যা গেইমিং ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।