
প্রথম দেখায় এটিকে যেকোনো সাধারণ পিঁপড়ে বলেই ভুল হতে পারে। তবে আটটি পা, নিখুঁত লাফানোর ক্ষমতা এবং চমৎকার শিকার ধরার দক্ষতা দেখে বোঝা যায় এটি আসলে কোনো পিঁপড়ে নয়—লাফানো মাকড়সারই (Jumping Spider) একটি বিশেষ গণ ‘মিরমারাকনি’ (Myrmarachne)। প্রকৃতির তৈরি অন্যতম সেরা আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে এটি নিজের শরীরে পিঁপড়ের নিখুঁত ছদ্মবেশ ধারণ করে ঘুরে বেড়ায়।
প্রকৃতিতে পিঁপড়েদের কামড়, হুল, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং রাসায়নিক প্রতিরক্ষার কারণে পাখি বা অন্যান্য শিকারিরা সাধারণত তাদের এড়িয়ে চলে। বিবর্তনের ধারায় যেসব মাকড়সার শারীরিক গড়ন কিছুটা পিঁপড়ের রূপ নিয়েছিল, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে টিকে থাকার দৌড়ে তারা এগিয়ে যায়।
মিরমারাকনির দেহে বিশেষ সংকুচিত অংশ রয়েছে, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় পিঁপড়ের মাথা, বুক ও উদর আলাদা করা। সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এরা স্থির অবস্থায় বা ধীরে হাঁটার সময় সামনের দুই পা উপরে তুলে রাখে—যা অবিকল পিঁপড়ের শুঁড়ের মতো দেখায়।
| বৈশিষ্ট্য | মিরমারাকনি (মাকড়সা) | সাধারণ পিঁপড়ে |
|---|---|---|
| পায়ের সংখ্যা | ৮টি (২টি শুঁড়ের মতো রাখে) | ৬টি |
| শুঁড় (Antenna) | বাস্তবে নেই (পায়ের ভঙ্গি করে) | ১ জোড়া আসল শুঁড় রয়েছে |
| বিশেষ ক্ষমতা | উচ্চমাত্রায় লাফানোর ক্ষমতা | সাধারণ হাঁটাচলা |
| মূল প্রজাতি দৃষ্টান্ত | M. melanocephala | Tetraponera rufonigra |
১৮৩৯ সালে টাইপ প্রজাতি Myrmarachne melanocephala-র ওপর ভিত্তি করে ট্যাক্সোনোমিস্ট উইলিয়াম শার্প ম্যাকলে এই গণ প্রতিষ্ঠা করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার Tetraponera rufonigra পিঁপড়েকে অনুকরণ করে।
তবে একই প্রজাতির মধ্যে রঙ বা বয়সের কারণে ছদ্মবেশ বদলানোর কারণে উনিশ ও বিশ শতকে অনেক গবেষক বিভ্রান্ত হন। ডিএনএ বিশ্লেষণ ও আধুনিক ট্যাক্সোনোমির কল্যাণে আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এই ‘পিঁপড়ে-মাকড়সা’ প্রাকৃতিক নির্বাচনের এক জীবন্ত বিস্ময় হিসেবে সমাদৃত।