
হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপ চ্যাট ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ইউরো লেনদেন করেছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। ইউরোপীয় ব্রডকাস্টারদের এক চাঞ্চল্যকর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, কোনো ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ব্যাংকিং নজরদারি ছাড়াই এই অর্থের একটি বড় অংশ ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠী এবং মানব পাচারকারীদের হাতে পৌঁছেছে।
ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) ও বিবিসির সমন্বিত এই তদন্তে জানা যায়, অপরাধীরা প্রাচীন 'হাওয়ালা' পদ্ধতি ব্যবহার করত। এর মাধ্যমে এক দেশের ব্রোকার অর্থ গ্রহণ করে অন্য দেশে তার সহযোগীকে সমপরিমাণ অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেয়, ফলে কোনো অর্থ শারীরিকভাবে বা ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানান্তর করতে হয় না। ৫ হাজার ইউরোর বেশি যেকোনো লেনদেনের জন্য এই গ্রুপটি ব্যবহার করা হতো।
বেলজিয়ামের তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট ভিনসেন্ট গুয়েরা এই ঘটনাকে "বিস্ময়কর" বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি মূলত সন্ত্রাসে অর্থায়নের তদন্ত হিসেবে শুরু হলেও পরে এটি মহাসমুদ্রে এক বিন্দুর মতো মনে হয়েছে। চক্রটি পেশাদার ব্যাংকারের মতো কাজ করলেও তাদের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
| বিষয় | পরিমাণ / তথ্য |
|---|---|
| গ্রুপের নাম | Traders of Greater Europe |
| মূল হোতা | আবু আদম ও আবু আহমেদ (ব্রাসেলস) |
| শনাক্ত হওয়া লেনদেন | অন্তত ১২,০০০ (আইডি কার্ড ও নোটের ছবির ভিত্তিতে) |
| তদন্তকারী সংস্থা | ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (EBU) ও বেলজিয়ান পুলিশ |
২০২৪ সালে বেলজিয়ামে একটি মামলার রায়ের পর এই মেসেজগুলো প্রকাশ্যে আসে। ব্রাসেলস নেটওয়ার্কের প্রধান আবু আদমকে গ্রেপ্তারের পর তার ফোনে এই চ্যাটের সন্ধান মেলে, যেখানে দেখা যায় সে আইএস জঙ্গিদের স্ত্রীদের সিরিয়ার বন্দিশালা থেকে পালানোর জন্য অর্থ পাঠাচ্ছিল।
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ায় একটি কাবাবের দোকান থেকে পরিচালিত ভিয়েনার বৃহত্তম হাওয়ালা নেটওয়ার্কও সম্প্রতি ধ্বংস করা হয়েছে, যারা মানব পাচারের সাথে জড়িত ছিল। ইউরোপোলের লিয়াজোঁ অফিসার কুয়েন্টিন মুগের মতে, বর্তমানে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের অর্থ পাচারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই হাওয়ালা ব্যবস্থা।