
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (HSIA) তৃতীয় টার্মিনালটিকে সম্পূর্ণ হিসেবে দেখিয়ে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার কেবল এর ভবনটি উদ্বোধন করেছিল বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সংসদে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে এবং বকেয়া মেটাতে আরও ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন।
মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "আমরা ক্ষমতায় এসে দেখেছি ফ্যাসিবাদী সরকার কাজ শেষ করার নামে একটি ভবন উদ্বোধন করলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।" তিনি জানান, ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার পথে। রাজস্ব আয় এবং জাইকার ঋণ পরিশোধের স্বার্থে এটি দ্রুত চালু করা অপরিহার্য। তৃতীয় টার্মিনালটি চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা দ্বিগুণ হবে। এই ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে।
| বিষয় | বিস্তারিত পদক্ষেপ ও তথ্য |
|---|---|
| লাগেজ ডেলিভারি (২০২৫-২৬) | ৮৬ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রথম লাগেজ ১৮ মিনিটে এবং শেষ লাগেজ ৫৮ মিনিটে দেওয়া হয়েছে। |
| যাত্রী হয়রানি রোধ | হেল্প ডেস্ক, দ্রুত ব্যাগেজ স্ক্যানিং, চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন সিস্টেম চালু। |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | সিসিটিভি নজরদারি, গ্রাউন্ড স্টাফদের বডি ক্যামেরা এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা। |
| ডিজিটালাইজেশন | টিকিট বুকিং, রিফান্ড এবং ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট আরও আধুনিক করা হচ্ছে। |
প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী আরও জানান, বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেনা ৯টি উড়োজাহাজ (এয়ারক্রাফট) ক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা সরকার তদন্ত করে দেখবে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) নিরাপদ বিমান চলাচল এবং উন্নত বিমানবন্দর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।