
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা মানুষকে আক্ষরিক অর্থেই শিউরে তোলে। তেমনই এক অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছিল মরক্কোর জাহরা আবুতালিব নামের এক নারীর জীবনে। দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে তিনি নিজের গর্ভে বহন করেছিলেন একটি মৃত ভ্রূণ, যা সময়ের পরিক্রমায় পরিণত হয়েছিল আস্ত এক পাথরের শিশুতে!
১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন তরুণী জাহরা গর্ভবতী হন। কিন্তু প্রসববেদনা ওঠার পর হাসপাতালে গিয়ে অন্য এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে তিনি মারাত্মক ভয় পেয়ে যান। আতঙ্কে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর আশ্চর্যের বিষয় হলো, ধীরে ধীরে তার প্রসববেদনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় প্রচলিত বিশ্বাস ও কুসংস্কারের প্রভাবে জাহরা ভাবতে শুরু করেন, তার অনাগত সন্তানটি হয়তো পেটের ভেতরেই ঘুমিয়ে আছে—একদিন আবার ঠিকই জেগে উঠবে এবং জন্ম নেবে! কিন্তু সেই দিন আর আসেনি। তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘটনার কথা প্রায় ভুলেও যান। এভাবে কেটে যায় এক বছর... দুই বছর... তারপর কয়েক দশক!
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| রোগের নাম | লিথোপেডিয়ন (Lithopedion) বা স্টোন বেবি (Stone Baby) |
| কীভাবে ঘটে? | মৃত ভ্রূণ শরীর থেকে বের হতে বা শোষিত হতে না পারলে, মায়ের শরীরকে ইনফেকশন থেকে বাঁচাতে ভ্রূণের চারপাশে ক্যালসিয়াম জমা হতে শুরু করে। |
| ফলাফল | কয়েক দশক পর ভ্রূণটি শক্ত, পাথরের মতো ক্যালসিফায়েড দেহে পরিণত হয়। |
প্রায় ৪৬ বছর পর, বৃদ্ধ বয়সে জাহরার পেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়। চিকিৎসকেরা যখন পরীক্ষা ও স্ক্যান করলেন, তখন যে দৃশ্য তারা দেখলেন তা ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। তার পেটের ভেতরে এত বছর ধরে রয়ে গেছে সেই অনাগত শিশুর দেহ!
তবে সেটি আর সাধারণ কোনো ভ্রূণ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে মৃত ভ্রূণটি শরীর থেকে বের হতে না পারায় এবং শরীর সেটিকে সম্পূর্ণ শোষণ করতে না পারায়, ধীরে ধীরে তার চারপাশে ক্যালসিয়াম জমে গিয়েছিল। কয়েক দশক পর সেটি শক্ত, পাথরের মতো ক্যালসিফায়েড দেহে পরিণত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অত্যন্ত বিরল ঘটনাকে বলা হয় Lithopedion বা পাথরের শিশু। অবশেষে জটিল এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা জাহরার শরীর থেকে সেই প্রায় ৪৬ বছর পুরোনো ক্যালসিফায়েড ভ্রূণটি সফলভাবে বের করে আনেন।