
ইউরোপের পাসপোর্ট-মুক্ত অবাধ চলাচলের ‘শেনজেন’ (Schengen) ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে স্পেন ও ইতালি সাময়িকভাবে একে অপরের যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও কড়াকড়ি পুনরায় চালু করেছে। ইউরোপের এই দুই মিত্র দেশের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মহাদেশটির স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংকটের সূত্রপাত ঘটে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউটাতে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের পর। এর জেরে ইতালি স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের ওপর প্রথম কড়াকড়ি আরোপ করে। ইতালির দাবি, স্পেনে প্রবেশ করা অভিবাসীরা যেন ইতালিতে ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা। রোম স্পষ্ট জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ এবং এটি মূলত ইইউ-বহির্ভূত নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে স্পেন ইতালির এই যুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মাদ্রিদের দাবি, সেউটাতে প্রবেশকারী অভিবাসীদের পক্ষে সরাসরি শেনজেন এলাকায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়। ইতালির পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে স্পেন গত ৭ আগস্ট মধ্যরাত থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে ইতালি থেকে আসা যাত্রীদের পাসপোর্ট, জাতীয়তা এবং ভিসা পরীক্ষা শুরু করেছে।
| বিষয় | বিশ্লেষণ ও অবস্থান |
|---|---|
| ইতালির পদক্ষেপ | নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের চেকিং। |
| স্পেনের পাল্টা ব্যবস্থা | ৭ আগস্ট থেকে ইতালি ফেরত যাত্রীদের আকাশ ও নৌপথে ভিসা-পাসপোর্ট তল্লাশি। |
| কেন্দ্রীয় বিবাদ | সেউটা (Ceuta) ভূখণ্ডে প্রায় ১৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্কসহ হাজারো অভিবাসীর প্রবেশ। |
| রাজনৈতিক টানাপোড়েন | স্পেনের পেদ্রো সানচেজ বনাম ইতালির জর্জিয়া মেলোনি। |
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ইতালির ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে, এই সীমান্ত বিবাদের মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই চেকিংয়ের কারণে ইতিমধ্যেই ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের ইতালির বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবাধ যাতায়াতের স্বপ্নকে সাময়িকভাবে হলেও থমকে দিয়েছে।