
তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ও নজিরবিহীন বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা ১,০০০ পার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। বর্তমানে ৩,৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬০০ জনেরও বেশি হাইড্রো পাওয়ার (জলবিদ্যুৎ) প্রকল্পের কাদায় ভরা সুড়ঙ্গের ভেতর আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক সুড়ঙ্গগুলোতে আটকা পড়া শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে উদ্ধারকারীরা অনবরত বাতাস (অক্সিজেন) পাম্প করে যাচ্ছেন।
একটি সেনাদল সুড়ঙ্গের গভীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও সেখানে কাউকে না পেয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
নিখোঁজ ৩৩ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ার ঔরস ভণ্ডারীর স্ত্রী অনুশীলা ভণ্ডারী বিবিসি নেপালিকে বলেন, "আমি শুধু চাই ওকে খুঁজে পাওয়া যাক, সে যেন বাড়ি ফিরে আসে।"
অপর এক উদ্ধার হওয়া শ্রমিকের স্ত্রী সীতা পাণ্ডে জানান, ভেতরে অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু থাকায় তার স্বামী জীবিত আছেন বলে তিনি এখনও ৫০% আশা রাখছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ (বালেশ শাহ) জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন সাইট থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চিন ও নেপালের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বাধীন সমন্বিত উদ্ধারকাজে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করছে। উদ্ধারকাজে পাহাড়ের গায়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।
জলবিদ্যুৎ নির্ভর নেপালের বহু বছরের তৈরি ও নির্মাণাধীন অন্তত ১১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাবেক ইন্টারন্যাশনাল টানেলিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ও অস্ট্রেলীয় বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স জানান, বিপর্যয় এতই ভয়াবহ যে নদী ও সুড়ঙ্গের ভৌগোলিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠের (Lunar Landscape) মতো রূপ নিয়েছে। সেখানে ঘরের চেয়েও বড় বড় পাথর আটকে আছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ একে সাধারণ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না বলে মন্তব্য করে জানান, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমন বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে জোরালোভাবে তোলার সময় এসেছে।
বন্যায় উদ্ধার হওয়া লাশ পচন ধরতে শুরু করায় এবং পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় চিতবন জেলায় শত শত অজ্ঞাত লাশের ডিএনএ (DNA) নমুনা রেখে সাময়িকভাবে এক সঙ্গেই গণকবর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে মাত্র ৪% শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সীমান্তের ওপারে তিব্বতে চিনের হিসাব অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ এবং নিখোঁজ ৫৪৬ জন। তবে অনলাইনে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তথ্য প্রকাশের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ ও জরিমানা আরোপ করছে চিন প্রশাসন। অন্যদিকে নেপাল সরকারও বন্যা সংক্রান্ত গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধে অনলাইনে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।