
টাকা দিলেই এখন অনলাইনে খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে নাগরিকদের অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য। কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল ফোনের ‘লাইন লোকেশন’, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি থেকে শুরু করে পাসপোর্ট ও টিআইএন (TIN)-এর মতো তথ্য বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই। সম্প্রতি ‘ডিসমিসল্যাব’-এর এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের এই ভয়াবহ চিত্র।
টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব তথ্যের বেচাকেনা চলছে অন্তত তিন বছর ধরে। ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিকাশে অর্থ পরিশোধ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রেতারা তথ্য সরবরাহ করছে।
প্রাপ্ত সিডিআর ফাইলে সর্বশেষ ২০টি যোগাযোগের নম্বর, কল শুরুর সময়, কলের স্থায়িত্ব, আইএমইআই (IMEI) এবং সেল আইডি বা টাওয়ারের নিখুঁত ঠিকানা পর্যন্ত থাকছে। এমনকি মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির চলাচলের গতিবিধিও অনায়াসে জেনে যাচ্ছে অপরাধীরা।
| তথ্যের ধরন | মূল্য (টাকা) | সরবরাহের সময় |
|---|---|---|
| ৩ মাসের কল ডিটেল রেকর্ড (CDR) | ১,০৫০ ৳ | প্রায় ২.৫ ঘণ্টা |
| ৬ মাসের কল ডিটেল রেকর্ড (CDR) | ১,৮০০ ৳ | - |
| মোবাইল লোকেশন / লাইভ লোকেশন | ১,৫০০ ৳ | প্রায় ১৬ মিনিট |
| এনআইডি (NID) পিডিএফ কপি | ৫০০ ৳ | প্রায় ১৭ মিনিট |
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, এসব তথ্য অন্যের হাতে গেলে পরিচয় জালিয়াতি, ভুয়া হিসাব খোলা বা বড় ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া রিয়েল-টাইম ডাটা ফাঁস হওয়ার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যন্তরীণ সম্পৃক্ততা বা নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
যদিও গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটার মতো অপারেটররা দাবি করেছে, তারা কেবল অনুমোদিত সরকারি সংস্থার কাছেই আইন মেনে তথ্য সরবরাহ করে থাকে। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে এনটিএমসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রায় ৭৮৯টি গ্রুপে নাগরিকদের এনআইডি ও কল রেকর্ড বিক্রি হচ্ছে। সুরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও এমন নামমাত্র মূল্যে তথ্যের এই বেচাকেনা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট অশনিসংকেত।