
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর (Dhour) চৌরাস্তা থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুটি সার্ভিস ব্রিজ আজ যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মূলত প্রতিটি ৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দুই লেনের সেতুগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সকালে ফিতা কেটে সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, "প্রকল্পটি একসময় থমকে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও উদ্যোগ গ্রহণ করায় এর গতি ফিরে এসেছে।" তিনি জানান, গত সাড়ে তিন বছরে প্রকল্পের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং গত ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সম্পূর্ণ এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত হবে এবং ঢাকার চারপাশে একটি চমৎকার রিং-রোড কানেক্টিভিটি তৈরি হবে।
| বিষয় | পরিসংখ্যান ও তথ্য |
|---|---|
| এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য | ২৪ কিলোমিটার |
| নির্মাণকাজ শুরুর তারিখ | ১২ নভেম্বর, ২০২২ |
| বর্তমান কাজের অগ্রগতি (জুলাই পর্যন্ত) | ৭২ শতাংশ |
| সার্ভিস ব্রিজে টোল ব্যবস্থা | টোলমুক্ত (ফ্রি) |
প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, আজ উন্মুক্ত হওয়া অংশসহ এক্সপ্রেসওয়ের নিচের দিকের সার্ভিস লেনগুলো সম্পূর্ণ টোলমুক্ত থাকবে। কেবলমাত্র মূল চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করলেই টোল দিতে হবে। তুরাগ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার স্বার্থে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান পুরোনো সড়কটি আর রাখা হবে না। ফলে নতুন এই সার্ভিস লেন ব্যবহার করে মানুষ সম্পূর্ণ বিনা খরচে তুরাগ নদী পার হতে পারবেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মেগা প্রকল্পের একাংশ খুলে দেওয়ায় চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার বলেন, "আগে আমরা যানজটে অনেক ভুগেছি। এই দুটি ব্রিজ খোলায় এখন বেশ স্বস্তি পাচ্ছি। পুরো প্রজেক্ট শেষ হলে আমাদের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে।" প্রাইভেটকার চালক আকাশ মিয়া জানান, রাস্তা প্রশস্ত হওয়ায় এখন গন্তব্যে অনেক দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।