নিউজ প্রোভাইডার
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় ও উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ শেষে অবশেষে স্বদেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় মির্জা আব্বাসকে বহনকারী বিশেষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এ সময় বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। বিমানবন্দরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে বিষটি নিশ্চিত করে জানান, গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্র ও শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পর চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমেই তিনি দেশে ফিরেছেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের ১১ মার্চ রমজানের ইফতারের সময় পানি পান করার মুহূর্তে আকস্মিকভাবে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই রাতেই তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর মস্তিষ্কে জটিলতা ধরা পড়ে এবং ওই হাসপাতালেই জরুরি ভিত্তিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার (Brain Surgery) সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তীতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) রাখা হলেও শারীরিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৫ মার্চ তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়।
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর এবং সিসিইউ (CCU) থেকে কেবিনে স্থানান্তরের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল হয়। পরবর্তীতে শারীরিক পুনর্বাসন, পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার এবং ফিজিওথেরাপির জন্য তাঁকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরে তিনি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং দ্রুতই নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংসদীয় দায়িত্ব পালনে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।