স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল
একজন মানুষ যেমন মায়ের কোলে জন্ম নেয়, তেমনি একটি জাতি জন্ম নেয় তার রাষ্ট্রের ভেতর। রাষ্ট্র কেবল মানচিত্রের কিছু রেখা নয়, এটি মানুষের আত্মপরিচয়, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, ভাষা ও অস্তিত্বের প্রতীক। তাই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে এই রাষ্ট্রকে মায়ের আসনে স্থান দেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয়বাদী মানুষের কাছে রাষ্ট্রই মা—যার মর্যাদা, সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রত্যেক সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব।
মা যেমন সন্তানকে আশ্রয় দেন, রাষ্ট্রও তেমনি নাগরিককে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করে। একজন নাগরিক রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন অথচ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করবেন না—এটি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংবিধান মেনে চলা, কর প্রদান, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা—এসবই রাষ্ট্রমাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ অনেকেই রাষ্ট্রকে কেবল সুবিধা নেওয়ার জায়গা হিসেবে দেখে। কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। উন্নত বিশ্বের বহু দেশের নাগরিকরা তাদের রাষ্ট্রকে নিজের পরিবারের মতো ভালোবাসে বলেই তারা উন্নতির চূড়ায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপ্রেমই হতে পারে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সবচেয়ে বড় শক্তি।
রাষ্ট্রকে মা মনে করা মানে অন্ধ আনুগত্য নয়; বরং রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করা, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করা এবং দেশের সম্মান রক্ষায় সচেতন থাকা। প্রকৃত সেই ব্যক্তি, যিনি রাষ্ট্রের সাথে বেইমানি করেন না। রাজনৈতিক বিভাজন, মতের ভিন্নতা বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে মনে রাখতে হবে—রাষ্ট্র টিকে থাকলে আমরাও টিকে থাকব।
বাংলাদেশ আমাদের পরিচয়, আমাদের গর্ব, আমাদের অস্তিত্ব। এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য লাখো শহীদের রক্ত ঝরেছে, অসংখ্য মা তাদের সন্তান হারিয়েছেন। সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে মা হিসেবে ভালোবাসা এবং তার উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করা আজ সময়ের দাবি।
রাষ্ট্র যদি মা হয়, তবে আমরা সবাই তার সন্তান। আর সন্তানের প্রথম দায়িত্ব হলো মায়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা।