
কলম্বিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্প বাংলাদেশকে একটি জরুরি প্রশ্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে: যখন একটি দেশের সিংহভাগ জনসংখ্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কেবল একটি শহরে কেন্দ্রীভূত হয়, তখন বড় কোনো দুর্যোগে কী পরিণতি হতে পারে? জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা ৫ কোটি ছাড়িয়ে এটি বিশ্বের বৃহত্তম শহরে পরিণত হবে। তাই শুধু মানুষ নয়, সুযোগ-সুবিধাকেও ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
শুধু আরেকটি ৩ কোটি মানুষের ঢাকা শহর তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। রেল, মহাসড়ক এবং নৌপথের পাশে স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যালস, আইটি, নবায়নযোগ্য শক্তির মতো নির্দিষ্ট শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। মানুষ তখনই স্বেচ্ছায় ঢাকা ছাড়বে, যখন তারা অন্য শহরে ভালো চাকরি, সাশ্রয়ী বাসস্থান, মানসম্মত স্কুল এবং নিরাপদ চিকিৎসার নিশ্চয়তা পাবে। আবাসন বাড়ানোর আগে অবশ্যই জলাভূমি সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং বর্জ্য জল পুনর্ব্যবহারের মতো পানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।
| খাত | প্রত্যাশিত রূপান্তর ও সুবিধা |
|---|---|
| মানবসম্পদ ও অর্থনীতি | অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজ → প্রশিক্ষণ → দক্ষ কর্মসংস্থান → পারিবারিক নিরাপত্তা |
| পানি ও পরিবেশ | জলাভূমি সংরক্ষণ, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা |
| জনস্বাস্থ্য নীতি | পরিচ্ছন্ন বাতাস, নিরাপদ পানি ও হাঁটার উপযোগী শহর রোগ প্রতিরোধ করবে |
| দুর্যোগ ও ভূমিকম্প মোকাবিলা | একাধিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র তৈরি দেশের জন্য 'জাতীয় বিমা' হিসেবে কাজ করবে |
এই কৌশলটির অর্থ ঢাকাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা নয়, বরং ঢাকাকে বাঁচানোর এটিই সম্ভবত সেরা উপায়। ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ অন্যান্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত হলে, ঢাকা ধীরে ধীরে তার পুরনো ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ, বেদখল খাল পুনরুদ্ধার এবং সবুজায়ন সম্ভব হবে। মূল লক্ষ্য ঢাকাকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা নয়, বরং ঢাকার বাইরেও পুরো বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।