
রাজধানী ঢাকা যেন এখন ছিনতাইকারীদের এক অভয়ারণ্য। সাধারণ যাত্রীরা শুধু সর্বস্বই হারাচ্ছেন না, কখনো কখনো দিতে হচ্ছে প্রাণের চরম মূল্য। সম্প্রতি বগুড়ার এক স্কুল শিক্ষিকা রঞ্জিলা পারভীন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও ভুক্তভোগী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন ছিনতাই আগের চেয়ে অনেক বেশি 'সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া' হয়ে উঠেছে, তবে পুলিশের পরিসংখ্যানে ছিনতাই বাড়ার দাবিকে নাকচ করা হচ্ছে।
ছিনতাইকারীরা এখন আর শুধু নির্জন রাস্তায় ভয় দেখিয়ে আটকে রাখছে না, তারা দিনে-দুপুরেও চাপাতি বা দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করছে। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে দুই বোনকে বাড়ির সামনে কুপিয়ে সর্বস্ব লুটের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এছাড়া পুলিশের ওপরও আক্রমণ করতে পিছপা হচ্ছে না তারা। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারী বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০৮ জন তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে ভাসমান ছিনতাইকারীর সংখ্যা এর চেয়ে বহুগুণ বেশি, যারা প্রমাণের অভাবে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।
| বিভাগ ও বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট রুজুকৃত মামলা | ১৭২টি (গত বছরের অর্ধেক) |
| মোট গ্রেপ্তার | ৪০২ জন |
| সর্বোচ্চ মামলা ও গ্রেপ্তার (বিভাগ) | ওয়ারী (৩৮ মামলা) ও তেজগাঁও (১৩৮ গ্রেপ্তার) |
| মামলা না করার প্রবণতা | অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে শুধু 'জিডি' (সাধারণ ডায়েরি) করেন। |
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওমর ফারুক মনে করেন, ছিনতাই এখন আর শুধু প্রান্তিক বা মাদকাসক্তদের কাজ নেই; এটি সংঘবদ্ধ অপরাধে রূপ নিয়েছে এবং এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের মদদ রয়েছে। অন্যদিকে, ডিএমপির উপ-কমিশনার মো. আখতার হোসেন বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধ পুলিশের মূল অগ্রাধিকার। তবে অনেক ভুক্তভোগী আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার ভয়ে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে পরিসংখ্যানে ছিনতাইয়ের প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না।
রাজধানীর অনেক এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের সময় ট্রাফিক পুলিশের সাহসী হস্তক্ষেপে একাধিক অপরাধী আটক হলেও, সাধারণ নাগরিকদের মনে 'ছিনতাই আতঙ্ক' এতটাই গভীরে প্রবেশ করেছে যে, অনেকেই এখন একা বের হতে ভয় পাচ্ছেন।